খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রান তাড়ার নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করেছে লিটন দাসের দল। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে এটিই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে ২০২৩ সালে নেপিয়ারে ১৩৫ রান তাড়া করে জয় ছিল কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। আজকের ম্যাচে ১৮৩ রান তাড়া করার মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল নিজেদের রেকর্ডই ভাঙেনি, বরং দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে যেকোনো দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নজির স্থাপন করেছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে নেপিয়ারে ১৪২ রান তাড়া করে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড, যা এতকাল এই তালিকার শীর্ষে ছিল।
| বিষয় | বিবরণ |
| টস | বাংলাদেশ (টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত) |
| নিউজিল্যান্ডের স্কোর | ১৮২/৭ (২০ ওভার) |
| বাংলাদেশের স্কোর | ১৮৩/৪ (১৮ ওভার) |
| ফলাফল | বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী |
| ম্যাচসেরা | তাওহিদ হৃদয় (৫১* রান) |
| সিরিজের অবস্থা | বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে |
ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। দুই ব্যাটার কেটেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেইভারের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। ক্লেইভার ও ক্লার্ক উভয়েই সমান ৫১ রান করে আউট হন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট শিকার করেন।
১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান সতর্কতার সাথে ইনিংস শুরু করেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ৪১ রান যোগ করেন। সাইফ হাসান ১৭ রান এবং তানজিদ তামিম ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অধিনায়ক লিটন দাস ২১ রান করে আউট হলে মিডল অর্ডারের ওপর চাপ বাড়ে।
তবে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি। তাওহিদ হৃদয় ইনিংসের হাল ধরে অ্যাংকরের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালিয়ে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তিনি ২ টি চার ও ৩ টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৫১ রান করেন।
অন্যদিকে, পারভেজ ইমন ও শামীম পাটোয়ারি ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ইমন মাত্র ১৪ বলে ২৮ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে শামীম পাটোয়ারি ছিলেন ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। তিনি ২৩৮.৪৬ স্ট্রাইকরেটে মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন, যার মধ্যে ছিল ৩ টি চার ও ২ টি দর্শনীয় ছক্কা। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে লেগস্পিনার ইশ সোধি সর্বোচ্চ ২ উইকেট দখল করেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সফল একটি দিন। বিশেষ করে শামীম ও ইমনের ২০০-এর বেশি স্ট্রাইকরেটের ব্যাটিং আধুনিক টি-টোয়েন্টির মেজাজ তুলে ধরেছে। নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ১২ বল বাকি থাকতেই জয় পাওয়া বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস সিরিজে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই জয়টি চট্টগ্রামের মাঠে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয় হিসেবে গণ্য হবে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ছন্দ ধরে রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য হবে টাইগারদের।