খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানায় দায়েরকৃত নাশকতা ও হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মনির হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত সোমবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মুখস্থ একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মনির হোসেন হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
র্যাব-৭ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি মনির হোসেন চট্টগ্রাম শহরের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনের একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল সোমবার রাতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত মো. মনির হোসেন হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নের কালু মুন্সীর বাড়ির মো. আবদুল জব্বার হোসেনের ছেলে। তিনি রাজনৈতিকভাবে স্থানীয় ছিপাতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় হত্যাচেষ্টা ও নাশকতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া মামলার ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিচে গ্রেপ্তারকৃত আসামির তথ্যাদি ও মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| আসামির নাম | মো. মনির হোসেন (৪০) |
| পিতার নাম | মো. আবদুল জব্বার হোসেন |
| ঠিকানা | কালু মুন্সীর বাড়ি, ছিপাতলী ইউনিয়ন, হাটহাজারী |
| রাজনৈতিক পরিচয় | সভাপতি, ছিপাতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ |
| গ্রেপ্তারকারী সংস্থা | র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) |
| গ্রেপ্তারের স্থান | জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সংলগ্ন রেস্টুরেন্ট |
| প্রাথমিক অভিযোগ | নাশকতা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন |
| বর্তমান অবস্থা | হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর |
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র্যাব সদস্যরা মো. মনির হোসেনকে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মঙ্গলবার তাকে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার গভীরতা যাচাই করতে প্রয়োজনে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।
হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।