নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার পূর্ণকলস গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো নুর মোহাম্মদ (১০) ও আরাফাত (১১)।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে নুর মোহাম্মদ ও আরাফাত বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করছিল। কিছু সময় পর তাদের কোথাও খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে আশপাশে খোঁজ শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধানের পর বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরের পানিতে দুই শিশুর নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশু দুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও প্রতিবেশীরা গভীরভাবে শোকাহত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পরিত্যক্ত পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। চারপাশে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে খেলতে বা গোসল করার উদ্দেশ্যে পানিতে নামার সময় তারা গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
নিহত দুই শিশুর পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য নিচে দেওয়া হলো—
নাম
বয়স
পিতা
গ্রাম
ঘটনা
নুর মোহাম্মদ
১০ বছর
রাজু আহমেদ
পূর্ণকলস
পানিতে ডুবে মৃত্যু
আরাফাত
১১ বছর
মিন্টু
পূর্ণকলস
পানিতে ডুবে মৃত্যু
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আব্দুস সামাদ মণ্ডল জানান, বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুরে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভবত তারা খেলা বা গোসলের সময় অসাবধানতাবশত গভীর পানিতে চলে যায় এবং সেখানেই ডুবে যায়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই ঘটে থাকে, বিশেষ করে যখন জলাশয়গুলো অরক্ষিত থাকে। স্থানীয়রা মনে করেন, পুকুর বা জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং শিশুদের পানির কাছাকাছি খেলাধুলা থেকে সতর্ক রাখার বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।