১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল

আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল। দেশের এভিয়েশন খাতের অন্যতম বৃহৎ এই অবকাঠামোটি চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়সীমাকে সামনে রেখে টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যক্ষম করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল নির্ধারণের মাধ্যমে এই টার্মিনাল দ্রুত চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ বিবেচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিমানবন্দর অবকাঠামোর বর্তমান চিত্র ও সেবার বিবরণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্বিক অবকাঠামো এবং যাত্রীসেবা প্রসারে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ একটি মাইলফলক প্রকল্প। বর্তমানে বিমানবন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো এবং যাত্রী সুবিধার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

অবকাঠামোর বিবরণ আয়তন ও সেবার পরিধি বর্তমান সেবা ও সুবিধা
বিদ্যমান টার্মিনালসমূহ টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এবং ভিআইপি টার্মিনাল। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রী ব্যবস্থাপনা ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম।
মোট আওতাধীন এলাকা ৯৪,০০০ বর্গমিটার (বিদ্যমান টার্মিনালসমূহ এবং কার পার্কিং এরিয়াসহ)। ব্যাপক বিস্তৃত এলাকা জুড়ে যাত্রী ও যানবাহন পার্কিংয়ের সুবিধা।
ডিজিটাল সেবা বিমানবন্দরের সকল গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া। যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উচ্চগতির ওয়াইফাই (Wi-Fi) ইন্টারনেট সুবিধা।

নতুন টার্মিনালের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি দেশের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়নে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্তমানের ১ ও ২ নম্বর টার্মিনালের বার্ষিক যাত্রী ধারণ ক্ষমতা এবং কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা সীমিত হওয়ায়, ক্রমবর্ধমান বিমান যাত্রীদের চাপ সামলাতে এই নতুন টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং বিশ্বমানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই টার্মিনালের ডিজাইন ও নির্মাণ কাজ পরিচালনা করা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। নতুন এই টার্মিনালটি চালু হলে বিমানবন্দরের সামগ্রিক ধারণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

টার্মিনালটি চালুর পূর্বে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক এভিয়েশন মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কাজগুলো সমানতালে এগিয়ে চলছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়টি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশি-বিদেশি সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। এই টার্মিনালটি চালু হলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম একটি আধুনিক এভিয়েশন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।