খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩২ | ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চলতি মণ্ডলীর চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা দুপুর থেকে শুরু হয়ে রাত নয়টা পর্যন্ত চলে। সভার সমাপ্তির আগে হঠাৎ করে পদত্যাগের খবর আসে, যা বোর্ডের অভ্যন্তরে এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রথম পদত্যাগকারী ছিলেন ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ফায়াজুর রহমান মিতু। তার দুই ঘণ্টার মধ্যেই একই পথে পদত্যাগ ঘোষণা দেন আরও তিন পরিচালক: শাহনিয়ান তানিম, মেহেরব আলম এবং মঞ্জুরুল আলম। এক দিনে চার পরিচালকের পদত্যাগ বোর্ডের কার্যক্রমে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিয়েছে।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে একজন বলেন, “বোর্ডের কাজের পরিবেশে সন্তুষ্ট না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এটা কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়।” তবে পদত্যাগের সঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে রোববার জমা হওয়ার কথা থাকা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকেও যুক্ত করা হচ্ছে।
গতকাল রাত ১০টার দিকে মেইলের মাধ্যমে তিনজন পরিচালক তাদের পদত্যাগ নিশ্চিত করেন। সূত্রের খবর, পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিচের টেবিলে পদত্যাগকারীদের দায়িত্ব ও পদত্যাগের কারণ তুলে ধরা হলো:
| পরিচালক | দায়িত্ব | পদত্যাগের কারণ |
|---|---|---|
| ফায়াজুর রহমান মিতু | ডিসিপ্লিনারি কমিটি চেয়ারম্যান | বোর্ডের কাজে অসন্তুষ্টি |
| শাহনিয়ান তানিম | ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান | ব্যক্তিগত কারণ |
| মেহেরব আলম | সিকিউরিটি কমিটি | ব্যক্তিগত কারণ |
| মঞ্জুরুল আলম | মেডিকেল কমিটি | ব্যক্তিগত কারণ |
বোর্ডের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “যদি এখানে অস্থিরতা থাকত, আমি এখানে থাকতাম না। তদন্ত কমিটিকে কাজ করতে দিতে হবে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে, তার জন্য চিন্তিত নই। আমরা সকলেই প্যাশন নিয়ে কাজ করছি।”
বিসিবির প্রথম নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা বলেন, “আজ আমরা ৯ ঘণ্টা ধরে বোর্ড মিটিং করেছি। গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে বোর্ডকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে মনোযোগ দিচ্ছি।”
এমন একাধিক পদত্যাগ এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বোর্ডে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণকারী পরিচালকরা কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বোর্ডের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও পরিচালকদের মনোবল পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।