খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং সরবরাহ স্থিতিশীল। চট্টগ্রাম বন্দরে গত দুই দিন ধরে একটি জাহাজের তেল খালাস চলছে, এবং আগামী সোমবার আরও দুটি জাহাজ এসে মজুতকে আরও শক্ত করবে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এপ্রিল পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক উত্তেজনা থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না।
দেশে পেট্রোলের প্রায় পুরো উৎপাদন এবং অকটেনের সিংহভাগই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
| জ্বালানি পণ্য | উৎপাদন/আমদানি | চাহিদা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| পেট্রোল | দেশীয় উৎপাদন | পূর্ণ চাহিদা মেটানো | বিপিসি উৎপাদন যথেষ্ট |
| অকটেন | দেশীয় + সীমিত আমদানি | চাহিদার সিংহভাগ মেটানো | আমদানি সীমিত প্রয়োজন |
| ডিজেল | ২,৮০,০০০ টন আমদানি | এপ্রিল পর্যন্ত চাহিদা মেটানো | জাহাজ আগমন প্রক্রিয়াধীন |
| ফার্নেস অয়েল | বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫০ দিনের চাহিদা | পর্যাপ্ত মজুত | কোনো ঘাটতি নেই |
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশের তেলের দাম বৃদ্ধির শঙ্কায় কিছু ভোক্তা ও ব্যবসায়ী অতিরিক্ত তেল ক্রয় করেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক পাম্পে সীমিত বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কেউ কেউ একক বিক্রয় মাত্রার বাইরে তেল নিতে পারছেন না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
রাজধানীর তালুকদার, পরীবাগ ও মালিবাগ অঞ্চলের পাম্পগুলোতে সকাল থেকে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনেছেন। মালিবাগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা মোটরসাইকেল চালক নজরুল ইসলাম জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাননি, তাই পরের দিন সকালেই পুনরায় তেল নিতে বের হয়েছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হক বলেন, সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সরবরাহ সীমিত থাকায় পাম্পে তেল দ্রুত শেষ হয়। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। বিপিসির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মূলত আতঙ্কিত ক্রেতা ও মুনাফা লোভে তেল মজুত করার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের তেলের মজুত পর্যাপ্ত এবং সরবরাহ স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা নিশ্চিত করেছেন, রেশনিং থাকলেও সমস্যা নেই। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও প্রয়োজনে তেল আনা যাবে।
পেট্রোল ও অকটেন দেশের কনডেনসেট এবং স্থানীয় রিফাইনারি থেকে উৎপাদিত হয়। দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন, যেখানে বার্ষিক চাহিদা মাত্র ৮–৮.৫ লাখ টন। ফলে ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
সংক্ষেপে, তেলের বাজারে আতঙ্ক এবং ভিড় মানুষ ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ক্রয় এবং সরকারি ছুটির কারণে তৈরি হয়েছে। তবে সরবরাহ স্থিতিশীল, আগামীকাল আসা দুটি জাহাজ মজুত আরও দৃঢ় করবে, এবং এপ্রিল পর্যন্ত প্রয়োজনীয় আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই, তেল সরবরাহ নিয়মিত চলবে।