খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় পারিবারিক কলহের এক বীভৎস পরিণতির সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে নিজ ভাড়া বাসা থেকে বেলাল উদ্দিন জিহাদ ওরফে বাদল (২২) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, টিকটকার হিসেবে পরিচিত বাদলের স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি (৩৬) তার স্বামীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
রামু থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন রায়েত সরওয়ারের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে গত ৪-৫ মাস ধরে বসবাস করছিলেন বাদল ও আঁখি। বুধবার দুপুরের দিকে ওই বন্ধ ঘর থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে বাদলের নিথর ও অর্ধগলিত দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মরদেহটি অন্তত তিন থেকে চার দিন আগের। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে তাহেরা বেগম আঁখি গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বা অপ্রস্তুত বাদলকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। বাদলের তুলনায় আঁখির বয়স প্রায় ১৪ বছর বেশি এবং তিনি টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর গত রবিবার বা সোমবারের দিকে অভিযুক্ত আঁখি তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যান।
| বিবরণ | নিহত ব্যক্তি | অভিযুক্ত ব্যক্তি |
| নাম | বেলাল উদ্দিন জিহাদ (বাদল) | তাহেরা বেগম আঁখি |
| বয়স | ২২ বছর | ৩৬ বছর |
| পিতা/ঠিকানা | আবুল কাশেম, পূর্ব রাজারকুল | খুনিয়াপালং ইউনিয়ন (পিত্রালয়) |
| পেশা/পরিচয় | শ্রমিক/গৃহকর্তা | টিকটকার ও গৃহিণী |
| দাম্পত্য স্থায়িত্ব | প্রায় ৫ মাস (ভাড়া বাসায়) | ২ সন্তানের জননী |
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাদল ও আঁখির বয়সের ব্যবধান এবং আঁখির টিকটকে অতিরিক্ত আসক্তি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই তিক্ততা সৃষ্টি হতো। নিহত বাদলের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাহেরা বেপরোয়া জীবনযাপন করতেন, যা নিয়ে বাদল আপত্তি জানালে তাদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক বিবাদ লেগেই থাকত। এই ধারাবাহিক কলহের জেরেই পরিকল্পিতভাবে বাদলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত টিকটকার স্ত্রী পলাতক রয়েছেন। তাকে এবং তার সন্তানদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান চালাচ্ছে।”
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব এবং অসম বয়সের বিয়ের পরিণতির বিষয়টি স্থানীয় মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিহতের পরিবার এই নৃশংস খুনের সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।