খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণীকে (১৮) দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং তাঁর এক আত্মীয়কে (মামি) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিন তরুণের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী দুই নারী পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেবীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের নির্জন এলাকার বাড়িতে বসবাস করেন। এর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পেও তাঁদের বরাদ্দ পাওয়া একটি ঘর রয়েছে, যেখানে তাঁরা নিয়মিত যাতায়াত ও বসবাস করেন। সম্প্রতি ওই তরুণীর বাড়িতে তাঁর মামি বেড়াতে আসেন।
গত রবিবার বিকেলে তরুণী ও তাঁর মামি পাশের এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রাত ১০টার দিকে তাঁরা গ্রামের মূল বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে তাঁদের পৌঁছানোর আগেই তরুণীর বাবা-মা বাড়ির বাইরের টিনের দরজায় তালা লাগিয়ে পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে চলে যান।
তালাবদ্ধ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তরুণী ও তাঁর মামি একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পান। নির্জন এলাকা হওয়ায় তাঁরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তির কাছে একটি ভ্যান ভাড়া করে দেওয়ার জন্য সহযোগিতা চান। ওই ব্যক্তি তখন ভ্যান খোঁজার কথা বলে সামনের দিকে এগিয়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তবে তিনি একা ছিলেন না, তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচজন ব্যক্তি ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছিল তা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| ভুক্তভোগী | অপরাধের স্থান | অপরাধের ধরন ও বিবরণ |
| তরুণী (১৮) | নিজ বাড়ির কক্ষের ভেতরে | তিন যুবক ঘরের বেড়া খুলে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই তিনজন তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। |
| তরুণীর মামি | করতোয়া নদীর পাড় | বাকি তিনজন ওই নারীকে জোরপূর্বক ব্যাটারিচালিত ভ্যানে তুলে পাশের করতোয়া নদীর পাড়ে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। |
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারী (মামি) অভিযুক্তদের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে তিনি পুনরায় তাঁর ভাগনির (তরুণী) বাড়ির সামনে ফিরে আসেন। তাঁর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা তিন অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সোমবার ভোরে ভুক্তভোগী দুই নারী পায়ে হেঁটে তাঁদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে পৌঁছান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে সম্পূর্ণ ঘটনাটি প্রকাশ করেন। বিষয়টি জানার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিবেচনা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার রাতেই পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে তরুণীর বাবা বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে।
দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী দুজন বর্তমানে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তাঁদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন জবানবন্দি গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মামলার এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।