খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিনটি উইকেট প্রয়োজন বাংলাদেশের, আর পাকিস্তানের সামনে রয়েছে ম্যাচ বাঁচাতে কিংবা জয় পেতে কঠিন সমীকরণ। শেষ বিকেলে সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের প্রতিরোধ ভেঙে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে।
দিনের শেষ ভাগে পাকিস্তানের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তুলেছিলেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৪ রানের এই জুটি একসময় বাংলাদেশের জয়যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে স্পিনার তাইজুল ইসলাম দারুণ এক ডেলিভারিতে সালমান আলি আগাকে বোল্ড করে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন। ৭১ রান করে বিদায় নেন সালমান। এই উইকেট ম্যাচে নতুন গতি এনে দেয়।
সালমানের বিদায়ের পর উইকেটে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি হাসান আলি। মাত্র ছয় বল মোকাবিলা করে তাইজুল ইসলামের পরের ওভারেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। শেষ বিকেলে মাত্র আট বলের ব্যবধানে দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। এই দুই দ্রুত সাফল্যে স্বস্তি নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ দল।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৮৬ ওভারে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য সফরকারীদের এখনো প্রয়োজন ১২১ রান। হাতে রয়েছে মাত্র তিনটি উইকেট। অন্যদিকে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করতে নিতে হবে আর তিনটি উইকেট।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৩২ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান তুলে পাকিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করায়। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান।
চতুর্থ দিনের শুরুতে পাকিস্তানের দুই ওপেনার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার নাহিদ রানা। অফ স্টাম্পের বাইরে করা শর্ট বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি আব্দুল্লাহ ফজল। গালিতে দাঁড়িয়ে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজ সহজ ক্যাচ নেন। দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করা এই ওপেনার দ্বিতীয় ইনিংসে ফেরেন মাত্র ৬ রানে।
দলীয় ১৪ রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় ওপেনার আজান আওয়াইসকেও ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। ডিফেন্স করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করেন বোলার। আম্পায়ার আউট দিলে পাকিস্তান রিভিউ নেয়। তবে ‘আম্পায়ার্স কল’ থাকায় ২১ রান করে ফিরতে হয় আজানকে।
৪১ রানে দুই ওপেনার হারানোর পর বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ দলকে কিছুটা স্থিতি এনে দেন। এই জুটিটি বড় হওয়ার পথে থাকলেও আবারও আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। ফিফটি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকা বাবর আজমকে ৪৭ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। এতে পাকিস্তান আবার চাপে পড়ে।
সিরিজজুড়ে ব্যাট হাতে সংগ্রাম করা সউদ শাকিল এবারও ব্যর্থ হন। ২১ বল খেলে মাত্র ৬ রান করে নাহিদ রানার শিকার হন তিনি। এরপর থিতু হওয়া অধিনায়ক শান মাসুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সেঞ্চুরির পথে এগোলেও ৭১ রানে তাইজুল ইসলামের বলে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট পড়ে ১৬২ রানে।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা প্রতিরোধ গড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় ব্যাট করে তারা বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলেন। তবে দিনের শেষভাগে তাইজুল ইসলামের স্পিন জাদু আবারও বাংলাদেশকে এগিয়ে দেয়।
চতুর্থ দিনের শেষে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ১১৩ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন। মিরপুরের স্পিন-সহায়ক উইকেট পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এছাড়া নাহিদ রানা দুটি এবং মেহেদি হাসান মিরাজ একটি উইকেট নিয়ে জয়ের পথ সুগম করেছেন।
এখন পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনেই বাংলাদেশের লক্ষ্য দ্রুত বাকি তিন উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা। অন্যদিকে সফরকারীদের জন্য ম্যাচ বাঁচাতে প্রয়োজন দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকা। মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে তাই দুই দলের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন লড়াই।