খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে অন্যতম সফল ও ধারাবাহিক বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ ২০২৪ সালের আসরে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ও পরিসংখ্যানগতভাবে দুর্বলতম সময়ের মুখোমুখি হয়েছেন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং আক্রমণের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই পেসার এবারের মৌসুমে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার এই ফর্মহীনতা এবং দলের সামগ্রিক ব্যর্থতার ফলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স চলতি আসরে দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে।
আইপিএল ২০২৪-এ বুমরাহর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১১ বছর পর এই প্রথম কোনো মৌসুমে তার উইকেট সংখ্যা দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। এবারের আসরে তিনি মোট ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তার প্রাপ্ত উইকেট সংখ্যা মাত্র ৪টি। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি এক অঙ্কের উইকেটে (৩টি) সীমাবদ্ধ ছিলেন, তবে সেবার তিনি খেলেছিলেন মাত্র ৪টি ম্যাচ। কিন্তু এবারের মৌসুমে পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও উইকেটের দেখা না পাওয়া তার ক্যারিয়ারে একটি বিরল ও নেতিবাচক রেকর্ড হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
বুমরাহ সাধারণত তার মিতব্যয়ী বোলিংয়ের জন্য পরিচিত, যার ক্যারিয়ার ইকোনমি রেট ৭.৩৩। তবে এবারের আসরে তার ইকোনমি রেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৩৬-এ দাঁড়িয়েছে। মাঝের ওভার এবং বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান নিয়ন্ত্রণে রাখার যে সক্ষমতা বুমরাহর সহজাত বৈশিষ্ট্য, এবারের আসরে সেখানে বড় ধরনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
নিচে জাসপ্রিত বুমরাহর আইপিএল ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানগত একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| মৌসুম | ম্যাচ সংখ্যা | উইকেট | ইকোনমি রেট |
| ২০১৩ | ২ | ৩ | ৭.৯৭ |
| ২০১৪ | ১১ | ৫ | ৭.৫৮ |
| ২০১৫ | ৪ | ৩ | ১২.২৬ |
| ২০১৬ | ১৬ | ১৫ | ৭.৮০ |
| ২০১৭ | ১৬ | ২০ | ৭.৩৫ |
| ২০১৮ | ১৪ | ১৭ | ৬.৮৮ |
| ২০১৯ | ১৬ | ১৯ | ৬.৬৩ |
| ২০২০ | ১৫ | ২৭ | ৬.৭৩ |
| ২০২১ | ১৪ | ২১ | ৭.৪৫ |
| ২০২২ | ১৪ | ১৫ | ৭.১৮ |
| ২০২৪ | ১৩ | ৪ | ৮.৩৬ |
| সর্বমোট | ১৫৮ | ১৮৭ | ৭.৩৩ (গড়) |
২০১৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বুমরাহ প্রতি মৌসুমে গড়ে ১৫টির বেশি উইকেট শিকার করেছেন। ২০২০ সালে ২৭ উইকেট এবং ২০১৭ সালে ২০ উইকেট শিকার করে তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের শিরোপা জয়ে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের আসরে মূল স্ট্রাইক বোলার উইকেট নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাওয়ার-প্লে এবং ডেথ ওভারে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা চড়াও হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর বুমরাহর এই অফ-ফর্ম গভীর প্রভাব ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক-থ্রু না আসা এবং রান খরচের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বোলিং ইউনিট হিসেবে ভারসাম্য হারিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বুমরাহ যখনই কোনো মৌসুমে ১৫-এর বেশি উইকেট নিয়েছেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্লে-অফ বা ফাইনালের দাবিদার থেকেছে। কিন্তু বর্তমান মৌসুমে তার এই ব্যক্তিগত ব্যর্থতা দলের দ্রুত বিদায়ের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
জাসপ্রিত বুমরাহ আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় ওপরের সারিতে থাকলেও, ২০২৪ মৌসুমটি তার জন্য একটি ব্যতিক্রমী এবং হতাশাজনক অধ্যায় হিসেবে গণ্য হবে। দীর্ঘ ১৫৮ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই বোলারের জন্য ১৩ ম্যাচে মাত্র ৪ উইকেট পাওয়া তার মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ক্রিকেটীয় প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ইনজুরি থেকে ফেরা বা নির্দিষ্ট মৌসুমে ছন্দের অভাব ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বুমরাহর অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখলেও, এবারের আসরের এই পরিসংখ্যান বুমরাহর দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্যের পথে একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।