মন্ত্রীর ৩২ লাখ টাকার গরু কেনা নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন ছেলে
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ৩২ লাখ টাকার গরু কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার ছেলে সারিয়ান চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে পারিবারিক কোরবানির ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে সারিয়ান চৌধুরী উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের কোরবানির কার্যক্রম প্রতি বছরই নির্দিষ্টভাবে পরিচালিত হয়। তিনি লেখেন, তার বাবা পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রতিবছর পারিবারিক কোরবানি এবং হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা–মাদ্রাসার জন্য ৬ থেকে ৮টি গরু ক্রয় করেন। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চলতি বছরও তারা মোট ৬টি গরু ক্রয় করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এসব গরু মূলত পারিবারিক কোরবানি ও এতিমখানা–মাদ্রাসার প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হয় এবং এতে গরিব মানুষের অংশ রয়েছে। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এসব কোরবানির মাধ্যমে গরিব মানুষের হক তাদের কাছে পৌঁছে যায় বলে তারা বিশ্বাস করেন।
সারিয়ান চৌধুরী তার পোস্টে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার পরিবার উদ্দেশ্যমূলক সমালোচনার শিকার হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হলেও একই ধরনের সমালোচনা অব্যাহত থাকবে কি না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে “অযৌক্তিক মিথ্যাচার” করা হচ্ছে।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং কোরবানির পশু ক্রয় সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি এ বিষয়ে আল্লাহর ওপর ভরসার কথা উল্লেখ করে বলেন, সবকিছুই আল্লাহ জানেন এবং তিনিই উত্তম পরিকল্পনাকারী।
এর আগে সম্প্রতি হাটে গিয়ে ৩২ লাখ টাকা দিয়ে একটি গরু কেনার খবর প্রকাশের পর পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তার ছেলে সারিয়ান চৌধুরী ফেসবুকে এই ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চমূল্যের গরু কেনাবেচা এবং কোরবানির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা নিয়মিতভাবে দেখা যায়। এ ধরনের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।