খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষিত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা না পেলেও, বৈশ্বিক এই আসরের আগে আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচের দলে ডাক পেয়েছেন ৬ জন তরুণ ফুটবলার। মূলত বিশ্বমঞ্চের মূল লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের চূড়ান্তভাবে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে লে আলবিসেলেস্তেরা। এই ম্যাচ দুটিকে সামনে রেখেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ লিওনেল স্কালোনি মূল দলের পাশাপাশি এই অনূর্ধ্ব তরুণ খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর মাত্র একদিন বিরতি দিয়ে আগামী ৯ জুন অ্যালাবামায় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেবে তারা।
আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মূল অভিযান শুরু করবে। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে অবতীর্ণ হওয়ার আগে এই প্রীতি ম্যাচ দুটিই দলটির জন্য শেষ প্রস্তুতি পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাংবাদিক দিয়েগো মনরইগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোচ লিওনেল স্কালোনির সফরসঙ্গী হিসেবে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৬ তরুণ ফুটবলার হলেন:
অগাস্টিন গিয়াই: পালমেইরাসের হয়ে খেলা এই তরুণ রক্ষণভাগের রাইট ব্যাক পজিশনে দায়িত্ব পালন করেন।
সান্তিয়াগো বেলত্রান: রিভার প্লেটের এই উদীয়মান গোলকিপার দলের গোলপোস্ট সামলানোর স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন।
জোয়াকিন ফ্রেতাজ: রিভার প্লেটের এই তরুণ স্ট্রাইকার আক্রমণভাগে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন।
সিমন এসকোবার: ভ্লেজ সার্সফিল্ডের এই ফুটবলার রক্ষণভাগের লেফট ব্যাক পজিশনে খেলবেন।
টমাস আরান্দা: বোকা জুনিয়রসের এই খেলোয়াড় অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠের দায়িত্ব পালন করবেন।
নিকোলাস কাপালদো: জার্মান ক্লাব হামবার্গারের এই ফুটবলারও স্কালোনির এই বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, এই ৬ তরুণ ফুটবলারকে বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না করা হলেও দলের সাথে রাখার বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। মূলত বিশ্বকাপের মূল আসরকে সামনে রেখে মূল দলের খেলোয়াড়দের নিবিড় অনুশীলনে সহায়তা করা এবং অনুশীলনের মান বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই এদের ক্যাম্পে আনা হয়েছে।
পাশাপাশি, দীর্ঘ এই টুর্নামেন্ট চলাকালীন মূল দলের কোনো খেলোয়াড় চোট বা ইনজুরিতে পড়লে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত বিকল্প প্রস্তুত রাখা যায়, সেই ব্যাক-আপ পরিকল্পনা থেকেই এই তরুণদের দলের সাথে রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তরুণ খেলোয়াড়রা যেমন বিশ্বমানের তারকাদের সাথে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন, তেমনই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পাইপলাইনও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোচ লিওনেল স্কালোনি এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দলের কৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পাশাপাশি এই তরুণদের পরখ করে দেখার সুযোগ পাবেন। টেক্সাস ও অ্যালাবামার এই ম্যাচ দুটি তাই আর্জেন্টিনার মূল দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি এই নতুন মুখগুলোর জন্য নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ।