খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রথম শিরোপার জন্য আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি এবং তাঁর দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের। গত মৌসুমে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল তারা। সেই গেঁড়ো খোলার পর এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো আরেকটি শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলে নিল বেঙ্গালুরু। দলের এই ঐতিহাসিক জয়ে ব্যাট হাতে ফাইনালের মঞ্চে দুর্দান্ত ও দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলে দলকে জেতাতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন কিংবদন্তি ব্যাটার বিরাট কোহলি নিজেই।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রবিবারের মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। শিরোপা নির্ধারণী এই মেগা ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারেনি গুজরাট টাইটান্স। বেঙ্গালুরুর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে পড়ে এটি একটি পুরোপুরি লো স্কোরিং ম্যাচে পরিণত হয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৫৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়নি গুজরাট। ফলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য বেঙ্গালুরুর সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৫৬ রানের। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে ৫ উইকেট হারালেও ১২ বল বাকি থাকতেই অত্যন্ত দাপটের সাথে ম্যাচ জিতে নেয় রজত পাটিদারের নেতৃত্বাধীন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএলের ১৯ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এটি দ্বিতীয় শিরোপা। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে মাত্র পাঁচ বছর আগে যুক্ত হওয়া গুজরাট টাইটান্স ইতিমধ্যে তিনবার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও দুবারই তাদের রানার্স-আপ হয়ে তথা হেরে মাঠ ছাড়তে হলো। এবারের এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে আইপিএলে পরপর দুবার ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক অনন্য কীর্তি গড়েছে বেঙ্গালুরু। এই সাফল্যের মাধ্যমে তারা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এর আগে পরপর দুবার শিরোপা জেতা মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস (২০১০ ও ২০১১ সাল) এবং রোহিত শর্মার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (২০১৯ ও ২০২০ সাল) মতো সফল দলগুলোর পাশে নিজেদের নাম লেখাল।
শিরোপার লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ফাইনালে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হন বিরাট কোহলি। তিনি মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে ঝড়ো ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। এই ইনিংস খেলার পথে তিনি নিজের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১১০তম আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফিফটি বা অর্ধশতক পূর্ণ করেন। একই সাথে এটি ছিল চলতি আইপিএল সিজনে তাঁর ব্যক্তিগত ষষ্ঠ পঞ্চাশছোঁয়া বা তার বেশি রানের ইনিংস। গুজরাটের বোলারদের কোণঠাসা করে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯টি দর্শনীয় চার এবং ৩টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৪২ বলে খেলা ৭৫ রানের একটি অনবদ্য ও অপরাজিত ম্যাচজয়ী ইনিংস।
১৬৩ বা ১৫৬ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে সাথে নিয়ে দলের জন্য একটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ও উড়ন্ত সূচনা করেন বিরাট কোহলি। গুজরাট টাইটান্সের প্রধান দুই বোলার মোহাম্মদ সিরাজ ও কাগিসো রাবাদার ওভারগুলোতে রীতিমতো তাণ্ডব চালান বেঙ্গালুরুর এই দুই ওপেনার। তাঁদের মারকুটে ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে মাত্র ৩.৩ ওভারের মাথায় দলীয় ৫০ রান পূর্ণ করে ফেলে বেঙ্গালুরু। তবে ম্যাচের পঞ্চম ওভারে ১৬ বলে দ্রুতগতির ৩২ রান করা ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে আউট করে এই বিপজ্জনক উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন পেসার মোহাম্মদ সিরাজ।
আইয়ারের বিদায়ের পর ক্রিজে আসা দেবদূত পাডিক্কালও এদিন ব্যাট হাতে খুব বেশি সময় পিচে টিকতে পারেননি। দলীয় অধিনায়ক রজত পাটিদার মাঠে নেমে কিছুক্ষণ বিরাট কোহলিকে যোগ্য সঙ্গ দিলেও ব্যক্তিগতভাবে বড় কোনো স্কোর দাঁড় করাতে ব্যর্থ হন। গুজরাটের বিশ্বমানের স্পিনার রশিদ খান এক অসামান্য স্পেলে একই ওভারের মধ্যে অধিনায়ক রজত পাটিদার ও অলরাউন্ডার ক্রুনাল পান্ডিয়াকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচটিতে সাময়িক উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে বিরাট কোহলি ঠান্ডা মাথায় বাকি পথ পাড়ি দিয়ে বেঙ্গালুরুর ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।