খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগার থেকে ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল পৌনে আটটার দিকে একটি বিশেষ বন্দিবাহী যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপন মোল্লা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পুরুষ হাজতখানায় এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তাঁদের বিচারিক কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হবে।
গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ হওয়া ওই শিশুটির খণ্ডিত ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই নৃশংস অপরাধটি সংঘটিত করার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ওই ফ্ল্যাটের শৌচাগারের জানালার লোহার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে পুলিশি তৎপরতায় ঘটনার দিন ১৯ মে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল পলাতক আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই ঘটনার পরদিন ২০ মে নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। এরপর ২০ মে বিকেলেই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার কথা আদালতের নিকট স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন।
আজ সোমবার আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কার্যকারণসহ অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেন। শিশু সহিংসতা ও শিশু নির্যাতন দমনে এত দ্রুততম সময়ে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার ঘটনাটি বিচারিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পল্লবীর এই শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান প্রধান তথ্যসমূহ নিচে একটি সারণির মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা হলো:
| মামলার বিবরণ ও খাত | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ফ্যাক্টস |
| অপরাধের সুনির্দিষ্ট স্থান | একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট, পল্লবী, ঢাকা |
| নিহত শিশুর বিবরণ | আট বছর বয়সী এক শিশু (খণ্ডিত লাশ উদ্ধার) |
| মামলার এজাহারভুক্ত আসামি | সোহেল রানা (প্রধান অভিযুক্ত) এবং স্বপ্না (স্ত্রী) |
| লাশ উদ্ধারের তারিখ ও সময় | ১৯ মে, ২০২৬ (বেলা সাড়ে ১১টা) |
| আসামি গ্রেপ্তারের স্থান | স্বপ্না (ঘটনাস্থল থেকে) এবং সোহেল রানা (ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ) |
| আদালতে জবানবন্দি প্রদানের তারিখ | ২০ মে, ২০২৬ (ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) |
| অভিযোগপত্র জমাদানের তারিখ | ২৫ মে, ২০২৬ (মামলা দায়েরের ৫ দিনের মধ্যে) |
| বর্তমান বিচারিক অবস্থা | শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি |
আদালত সূত্র এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই স্পর্শকাতর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন।