খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ব্যাট ও বলের লড়াইয়ে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এবার সেই একই সুরে কথা বলেছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। তাঁর মতে, আইপিএলের বর্তমান কিছু নিয়ম বোলারদের জন্য ম্যাচকে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে। এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে তিনি টুর্নামেন্টের নিয়মে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো বিতর্কিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের বিলুপ্তি।
চলতি আইপিএল ফাইনালের আগের রাতে আহমেদাবাদে আয়োজিত ‘ইএসপিএনক্রিকইনফো অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেন্ডুলকার। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আইপিএলের বর্তমান পরিস্থিতিসহ বোলার ও ব্যাটসম্যানদের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন এই মাস্টার ব্লাস্টার।
আইপিএলে মূলত ২০২৩ সালের আসর থেকে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মটি চালু করা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী, টসের সময় মূল একাদশের পাশাপাশি পাঁচজন অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের একটি তালিকা জমা দিতে হয়। ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে মূল একাদশের যেকোনো একজন খেলোয়াড়ের পরিবর্তে এই তালিকা থেকে একজনকে মাঠে নামানোর সুযোগ পান অধিনায়কেরা।
সহজ কথায়, এর ফলে প্রতিটি দল কার্যত ১১ জনের পরিবর্তে ১২ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলার সুবিধা পায়। এই বাড়তি সুযোগের কারণে ব্যাটসম্যানরা উইকেটে গিয়ে শুরু থেকেই অতিরিক্ত আগ্রাসী হয়ে খেলার স্বাধীনতা পান। দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে গেলেও দলগুলো একাদশের বাইরে থেকে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান নামিয়ে ব্যাটিং গভীরতা বাড়িয়ে নিতে পারে।
শচীন টেন্ডুলকার এই নিয়মটির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বোলারদের ওপর সৃষ্টি হওয়া অতিরিক্ত মানসিক ও কৌশলগত চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
“টি-টুয়েন্টি সংস্করণে মাত্র ২০ ওভারের খেলা হয়। সেখানে ব্যাটিং লাইনে আরও একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান যোগ করা হচ্ছে। বোলাররা এমনিতেই আধুনিক ক্রিকেটে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। এই নিয়মের কারণে খেলায় একধরনের স্পষ্ট ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।”
ব্যাট ও বলের খেলায় বোলারদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে শচীন টেন্ডুলকার তিনটি সুনির্দিষ্ট এবং কৌশলগত প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছেন। তাঁর প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো বোলার এবং ফিল্ডিং অধিনায়ককে ম্যাচের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া। নিচে টেবিলের মাধ্যমে তাঁর প্রস্তাবসমূহ এবং বর্তমান নিয়মের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | আইপিএলের বর্তমান নিয়ম | টেন্ডুলকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তন |
| দলের সদস্য সংখ্যা | ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কারণে দলগুলো ১২ জন খেলোয়াড় ব্যবহার করতে পারে, যা ব্যাটিং গভীরতা বাড়ায়। | ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটি পুরোপুরি বাতিল করা, যাতে দলগুলো ঐতিহ্যগতভাবে ১১ জন নিয়েই খেলে। |
| পাওয়ারপ্লে ও ফিল্ডিং নিয়ন্ত্রণ | ম্যাচের প্রথম ৬ ওভার টানা পাওয়ারপ্লে থাকে, যেখানে ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে সর্বোচ্চ ২ জন ফিল্ডার থাকতে পারেন। | পাওয়ারপ্লে-কে দুই ভাগে ভাগ করা। প্রথম ৪ ওভার ফিল্ড রেস্ট্রিকশন থাকবে। বাকি ২ ওভার অধিনায়ক নিজের সুবিধাজনক সময়ে নেবেন এবং সেখানে বৃত্তের বাইরে ৩ জন ফিল্ডার থাকবেন। |
| একক বোলারের সর্বোচ্চ কোটা | একজন বোলার একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪ ওভার বোলিং করার সুযোগ পান। | দলের সেরা বোলারকে ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫ ওভার বোলিং করার অনুমতি দেওয়া। |
পাওয়ারপ্লের নিয়মে পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে টেন্ডুলকার জানান, প্রথম চার ওভারের প্রথাগত পাওয়ারপ্লের পর বাকি দুই ওভার ফিল্ডিং অধিনায়ক তাঁর কৌশল অনুযায়ী ম্যাচের যেকোনো কঠিন মুহূর্তে ব্যবহার করতে পারবেন। ওই দুই ওভারে ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে দুজন ফিল্ডারের জায়গায় তিনজন ফিল্ডার রাখার অনুমতি দিলে ফিল্ডিং দল ম্যাচটি আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং রান তোলার গতিতে লাগাম টানা সম্ভব হবে।
পাশাপাশি, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে একজন বোলারের সর্বোচ্চ ৪ ওভার বল করার নিয়মটিরও সংশোধন চান তিনি। ব্যাটসম্যানদের পুরো ২০ ওভার খেলার সুযোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি একজন শীর্ষ ব্যাটসম্যান পুরো ইনিংসজুড়ে ব্যাটিং করতে পারেন, তবে দলের সেরা বোলার কেন বাড়তি এক ওভারের সুবিধা পাবেন না? তাঁর মতে, বোলারকে ৫ ওভারের কোটা দিলে দর্শক যেমন সেরা বোলারের সেরা ডেলিভারিগুলো বেশি দেখার সুযোগ পাবেন, তেমনি অধিনায়কও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী ওভারে তাঁর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোলারকে ব্যবহার করতে পারবেন।