খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনন্য ও নজিরবিহীন কীর্তি স্থাপিত হতে যাচ্ছে আসন্ন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে। এবারের আসরে অংশ নিতে যাচ্ছেন চল্লিষ বছর বা তার বেশি বয়সী রেকর্ডসংখ্যক আটজন ফুটবলার। বিশ্ব ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো একক আসরে এত বেশি সংখ্যক প্রবীণ খেলোয়াড়ের একসাথে অংশগ্রহণ দেখা যায়নি। এই পরিসংখ্যানটি কতটা বিস্ময়কর তা বোঝা যায় একটি ঐতিহাসিক তথ্যের মাধ্যমে—১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকে পূর্ববর্তী সকল আসর মিলিয়ে চল্লিষ বা তার বেশি বয়সী ফুটবলারের সর্বমোট সংখ্যাই ছিল মাত্র আটজন। ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া সর্বমোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের আনুষ্ঠানিক তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে এই অনন্য নজিরের বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছে।
এবারের বিশ্বমঞ্চে ডাক পাওয়া চল্লিষ বছর বা তার বেশি বয়সী এই আটজন ফুটবলারের মধ্যে পাঁচজনই হলেন মাঠের শেষ প্রহরী অর্থাৎ গোলরক্ষক এবং বাকি তিনজন খেলছেন মাঠের মধ্যভাগ ও আক্রমণভাগে। এই প্রবীণ খেলোয়াড়দের নাম, দেশ এবং তাঁদের বর্তমান পেশাদার ক্লাবের অবস্থান নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ফুটবলারের নাম | সংশ্লিষ্ট দেশের নাম | মাঠের অবস্থান | ক্লাবের বর্তমান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড |
| ক্রেগ গর্ডন | স্কটল্যান্ড | গোলরক্ষক | ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের বাইরে। |
| ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | পর্তুগাল | আক্রমণভাগ | ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের বাইরে। |
| গিয়ের্মো ওচোয়া | মেক্সিকো | গোলরক্ষক | ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের বাইরে। |
| লুকা মদরিচ | ক্রোয়েশিয়া | মধ্যমাঠ | ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগ (এসি মিলান)। |
| এডিন জেকো | বসনিয়া | আক্রমণভাগ | ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের বাইরে। |
| ম্যানুয়াল নয়্যার | জার্মানি | গোলরক্ষক | ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগ (বায়ার্ন মিউনিখ)। |
| জোসিমার দিয়াজ | নির্দিষ্ট দেশ | গোলরক্ষক | ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের বাইরে। |
| ফার্নান্দো মুসলেরা | উরুগুয়ে | গোলরক্ষক | ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের বাইরে। |
এবারের আসরে তালিকাভুক্ত হওয়া চল্লিষোর্ধ্ব পাঁচজন গোলরক্ষকের মধ্যে স্কটল্যান্ডের ক্রেগ গর্ডন এবং জোসিমার দিয়াজ এবারই প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার গৌরবময় যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই তালিকায় থাকা ফুটবলারদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রবীণ খেলোয়াড় হলেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেগ গর্ডন, যার বর্তমান বয়স ৪৩ বছর। তিনি স্কটল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের প্রথম পছন্দের মূল গোলরক্ষক হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে মাঠে নামতে পারেন। আগামী ২৪ জুন ‘সি’ গ্রুপ বা গ-গ্রুপের ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্কটল্যান্ড। গর্ডন যদি সেই ম্যাচে মাঠে নামেন, তবে তিনি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লেখাবেন। অবশ্য বিশ্বকাপের সামগ্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার বিশ্ব রেকর্ডটি এখনো মিসরের সাবেক গোলরক্ষক হিসাম আল হাদারির দখলে রয়েছে, যিনি ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৪৫ বছর ১৬১ দিন বয়সে মাঠে নেমে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তিনি ৪১ বছর বয়সে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে এবারের বিশ্বমঞ্চে পা রাখছেন। রোনালদোর জন্য এটি একটি অনন্য মাইলফলক, কারণ তিনি পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন। রোনালদোর সমকক্ষ হিসেবে এই আসরে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়াও নিজের কর্মজীবনের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন, যার বর্তমান বয়স চল্লিষ বছর। সাধারণত এত বেশি বয়সে পৌঁছানোর পর পৃথিবীর বেশিরভাগ ফুটবলারই ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল লীগগুলোর বাইরে গিয়ে খেলেন। তবে এই আটজন প্রবীণ খেলোয়াড়ের মধ্যে ব্যতিক্রম কেবল ক্রোয়েশিয়ার মধ্যমাঠের চালিকাশক্তি লুকা মদরিচ এবং জার্মানির ম্যানুয়াল নয়্যার। তাঁরা দুজনে এখনো ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের অন্তর্ভুক্ত স্বনামধন্য ক্লাব যথাক্রমে এসি মিলান ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন।