খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ এলাকার অন্তর্গত ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসের অনিয়ন্ত্রিত চাপায় সড়ক পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনায় আরও চারজন কর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩ জুন, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাত্রীবাহী বাসের বেপরোয়া গতি এবং চালকের অসতর্কতার কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হলেন—৩৫ বছর বয়সী মো. মাহফুজ এবং ৩৬ বছর বয়সী জামাল হোসেন। এই ঘটনায় বাসের নিচে পিষ্ট ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। আহত ব্যক্তিরা হলেন—চান মিয়া (৪০), সেলিম হোসেন (৩৫), বরকত হোসেন (৩২) এবং জসিম উদ্দিন (৩৫)। হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আহত চারজনের মধ্যে অন্তত দুইজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা তাদের জীবন রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের অংশে মহাসড়কের পাশে একদল সড়ক পরিচ্ছন্নতাকর্মী তাদের ব্যবহৃত কাজের যান বা কর্মযানটি নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তারা সেখানে স্বাভাবিক নিয়মে মহাসড়ক পরিষ্কারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঠিক এই সময়ে মাওয়া ঘাট এলাকা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী দ্রুতগতির বাস আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিয়ন্ত্রণহীন বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মযানটিকে পেছন থেকে সজোরে প্রচণ্ড শক্তিতে ধাক্কা দেয়। বাসের তীব্র ধাক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বহনকারী যানটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে ছিটকে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কর্মযানটির ভেতরে ও পাশে থাকা কর্মীরা বাসের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী চালকের চরম দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। যাত্রীদের দাবি, বাসটি চালানোর সময় চালক অসচেতনভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। মোবাইল ফোনে মগ্ন থাকা এবং একই সাথে মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনাটি ঘটার পরপরই মহাসড়কে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতায় হাইওয়ে ও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মাহফুজ ও জামাল হোসেনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন অর রশিদ দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই গোল্ডেন লাইন পরিবহনের ঘাতক বাসটির চালক ঘটনাস্থল থেকে সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তবে পুলিশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যাত্রীবাহী বাসটি চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করেছে। নিহত দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে এবং চালকের বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক বাসচালককে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।