খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আজ ক্রিকেটারদের বকেয়া পারিশ্রমিক আদায়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। পূর্বনির্ধারিত খেলোসূচি অনুযায়ী আজ সকাল নয়টা থেকে লিগের মোট ছয়টি ম্যাচ একযোগে শুরু হওয়ার কথা ছিল। দেশের বিভিন্ন ক্রিকেট ভেন্যুতে পাঁচটি ম্যাচ যথাসময়ে মাঠে গড়ালেও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এর মূল কারণ, মাঠে উপস্থিত হওয়ার পরেও ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা খেলায় অংশ নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। ক্লাবের পক্ষ থেকে চুক্তিবদ্ধ পারিশ্রমিক সময়মতো পরিশোধ না করায় খেলোয়াড়রা সম্মিলিতভাবে এই ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রাদার্স ইউনিয়নের একাধিক ক্রিকেটার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মৌসুমের শুরুতে ক্লাবের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হলেও এ পর্যন্ত তাঁদের মোট পারিশ্রমিকের মাত্র ২০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য ক্লাব কর্মকর্তাদের বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো ফল হয়নি। ক্রিকেটারদের দাবি অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই তাঁদের প্রাপ্য পারিশ্রমিকের ৫০ শতাংশ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় গতকাল রাতেও খেলোয়াড়রা ক্লাব কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। কিন্তু আজ ম্যাচের দিন সকাল পর্যন্ত পারিশ্রমিকের বকেয়া অর্থ না পাওয়ায় খেলোয়াড়রা ম্যাচ বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা মাঠে গিয়েও টস করতে বা খেলতে রাজি না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে বিজয়ী ঘোষণা করে পূর্ণ পয়েন্ট বা ‘ওয়াকওভার’ দেওয়া হয়।
আজকের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং চলতি ক্রিকেট লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের অবস্থান ও পরিসংখ্যান নিচে ছকের সাহায্যে তুলে ধরা হলো:
| নির্দিষ্ট বিষয় | মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি ও তথ্য | আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণ |
| ম্যাচের ভেন্যু ও সময় | বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকাল ৯:০০ টা। | অন্যান্য ভেন্যুর পাঁচটি ম্যাচ ঠিক সময়ে শুরু হলেও ব্রাদার্সের আপত্তির কারণে এই ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। |
| খেলোয়াড়দের আর্থিক ক্ষোভ | চুক্তির মাত্র ২০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। | নিয়মানুযায়ী ঈদের আগেই ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের কথা থাকলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তা দিতে ব্যর্থ হয়। |
| ম্যাচ রেফারির পর্যবেক্ষণ | রেফারি এনায়েত হোসেন চৌধুরী তামিম। | ব্রাদার্স দলগত তালিকা জমা দেয়নি এবং টসে আসেনি। অতিরিক্ত সময় দেওয়ার পরেও খেলোয়াড়রা মাঠে নামেননি। |
| ক্রিকেট কমিটির বক্তব্য | সিসিডিএম-এর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। | খেলোয়াড় বা ক্লাবের পক্ষ থেকে আগে কিছু জানানো হয়নি। পারিশ্রমিকের বিষয়টি সম্পূর্ণ ক্লাব ও খেলোয়াড়দের নিজস্ব চুক্তির আওতাভুক্ত। |
| লিগে দলের বর্তমান দশা | ৯টি ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যান। | চলতি লিগে খেলা ৯টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছে ব্রাদার্স। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে দলটির অবনমনের শঙ্কা প্রবল। |
উক্ত ম্যাচের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাচ রেফারি এনায়েত হোসেন চৌধুরী তামিম ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ব্রাদার্স ইউনিয়নের খেলোয়াড়রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের অফিশিয়াল খেলোয়াড় তালিকা জমা দেননি এবং তাঁরা টস প্রক্রিয়াতেও অংশ নেননি। তিনি এবং অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক মাঠে প্রায় আধঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করেছিলেন। পরবর্তীতে নিয়ম মেনে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হলেও তাদের কোনো খেলোয়াড় মাঠে না আসায় অগ্রণী ব্যাংককে নিয়মানুযায়ী জয়ী ঘোষণা করা হয়।
অন্য দিকে, ঢাকা ক্রিকেট কমিটি বা সিসিডিএম-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পারিশ্রমিক সংক্রান্ত এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা ম্যাচ বর্জনের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কিংবা খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে আগে থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য কমিটিকে জানানো হয়নি। ক্রিকেট কমিটির কর্মকর্তারা জানান, যদি আগে থেকে বিষয়টি তাঁদের নজরে আনা হতো, তবে তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা বা মধ্যস্থতার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারতেন। তবে তাঁরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, পারিশ্রমিক নির্ধারণ বা পরিশোধের ক্ষেত্রে ক্রিকেট কমিটির কোনো সরাসরি আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে ক্লাব প্রশাসন এবং ক্রিকেটারদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয়। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাদার্স ইউনিয়নের দলগত ব্যবস্থাপক আমেন খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মাঠের খেলায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে রয়েছে; এ পর্যন্ত খেলা ৯টি ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ১টি ম্যাচে জয়লাভ করতে পেরেছে, যার ফলে লিগের শীর্ষ স্তর থেকে নিচের স্তরে তাদের অবনমন বা রেলিগেশনের সম্ভাবনা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।