অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকার কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে সাত মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি পারিবারিক গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে শিশুটি প্রাণ হারায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও মা আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটে যখন পরিবারটি একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাত্রা করছিল। গুলিবর্ষণের পর শিশুটি গুরুতরভাবে আহত হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তার বাবা-মাও আহত হন। তবে তাদের আঘাতের মাত্রা বা চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবিতে গুলিবিদ্ধ গাড়ির ভেতরে শিশুর দুধের বোতল দেখা যায়। ছবিটি ঘটনাটির মানবিক দিককে সামনে আনলেও, গুলিবর্ষণের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি, ঘটনার পূর্বাপর কারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য তখনও পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি।
পশ্চিম তীর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। হেবরন এলাকাও এর ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় আবারও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত, সামরিক বাহিনীর বক্তব্য বা অতিরিক্ত তথ্য ওই সময় পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে একই সময়ে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস শহরেও আরেকটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। রাতের বেলায় সংঘটিত ওই হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁবুটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলার ফলে সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। আহত একজনকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
দুটি ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
ঘটনা
স্থান
হতাহত
পারিবারিক গাড়িতে গুলিবর্ষণ
হেবরনের কাছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর
সাত মাস বয়সী এক শিশু নিহত, বাবা-মা আহত
আশ্রয়স্থল তাঁবুতে হামলা
খান ইউনিস, দক্ষিণ গাজা
একজন নিহত, একজন আহত
সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বেসামরিক মানুষের ওপর সংঘাতের প্রভাব আবারও সামনে এসেছে। তবে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহত ও আহতদের পরিচয়, হামলার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বিবরণ তখনও সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট হয়নি।