খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
মানিকগঞ্জে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেই মিছিলের একটি ভিডিও চিত্র জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আপলোড বা প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন ২০২৬) দুপুর আনুমানিক তিনটার দিকে রাজেদুল ইসলাম নিজের ফেসবুক ওয়ালে এই ভিডিও সংবলিত পোস্টটি শেয়ার করেন।
ঠিক একই সময়ে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফেরদৌস খানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেও হুবহু একই ভিডিও চিত্র আপলোড করা হতে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরা যে ব্যানারটি প্রদর্শন করে এই ঝটিকা মিছিলটি বের করেছিলেন, তাতে তারা একটি বিশেষ বার্তা লিখেছিলেন। ব্যানারে তাদের পক্ষ থেকে লেখা হয়, ‘প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং’। এর ঠিক নিচেই যুক্ত করা হয় আরেকটি রাজনৈতিক স্লোগান, যেখানে লেখা ছিল, ‘দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’।
প্রকাশিত ওই ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মীর সমাগমে একদল যুবক এই ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশ নেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারী যুবকদের আইনি ও সামাজিক পরিচয় গোপন রাখার একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে, কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের মুখে মাস্ক এবং মাথায় মোটরসাইকেলের সুরক্ষামূলক হেলমেট পরিধান করে রেখেছিলেন। মিছিলের একেবারে মাঝখানের অংশে থাকা এক যুবককে সম্পূর্ণ খালি গায়ে এবং চোখে কালো সানগ্লাস পরা অবস্থায় দেখা যায়। খালি গায়ে থাকা ওই যুবকের বুকে ও পিঠে দলীয় বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত লেখা স্পষ্ট অক্ষরে আঁকা ছিল। তবে এই ঝটিকা মিছিলটি মানিকগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অনুষ্ঠিত হয়েছে, নাকি সিংগাইর-হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মিছিলের প্রকৃত স্থান বা লোকেশন নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী গণমাধ্যমকে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও চিত্রটি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত করছেন। তবে ভিডিওতে দৃশ্যমান রাস্তা বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মিছিলের প্রকৃত লোকেশন বা স্থানটি কোথায় ছিল, তা পুলিশ প্রশাসন এখনও নিশ্চিতভাবে শনাক্ত বা সুনির্দিষ্ট করতে পারেনি। স্থানটি চিহ্নিত করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ব্যানারে জেলা শহর বা এর আশপাশের মহাসড়কে এমন আকস্মিক মহড়া এবং দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেত্রীর প্রত্যাবর্তনের দাবি সংবলিত স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নেতা-কর্মীদের মাস্ক এবং হেলমেট পরে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার কৌশলটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর কেড়েছে। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই ভিডিওটির উৎস এবং এর পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, স্থান চিহ্নিত হওয়ার সাথে সাথেই আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।