দৌলতপুর প্রতিনিধি (কুষ্টিয়া):
প্রকাশ: রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
তামাকজাত কোম্পানির প্রলোভনে কুষ্টিয়ার কৃষকরা তামাক চাষে ঝুঁকছেন। এর ফলে খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে আসছে, এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোম্পানিগুলোর প্রলোভনে দেশের তামাক চাষের পরিমাণ বেড়েছে, তবে কৃষি বিভাগ এ বিষয়ে উদাসীন থাকছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কুষ্টিয়া জেলায় ১১,৩৮৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে, যার মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় চাষ হয়েছে ৩,৮০০ হেক্টর, যা গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি। এর ফলে খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তামাকজাত কোম্পানিগুলো বীজ, সারসহ সব ধরনের সুবিধা দেয় এবং তামাক ক্রয়ের নিশ্চয়তা প্রদান করে। এই সুবিধাগুলো পাওয়ার ফলে কুষ্টিয়াসহ দৌলতপুরে তামাক চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক মুনাফা পাওয়ার আশায় কৃষকরা খাদ্যশস্য চাষ ছেড়ে তামাক চাষে ঝুঁকছেন।
দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের কৃষক রানা হোসেন বলেন, ‘‘এতে একদিকে খাদ্যশস্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে রয়েছে। তামাক চাষ বাড়লে ভবিষ্যতে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।’’
তামাক চাষের ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চিকিৎসক ডা. হাফিউর রহমান পলাশ।
এদিকে, তামাক চাষের বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও কৃষি বিভাগের দাবি, তারা কৃষকদের তামাক চাষ থেকে বিরত থাকতে প্রেরণা দিচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, ‘‘আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি, তবে তামাক কোম্পানির প্রলোভন ও অধিক মুনাফার কারণে কৃষকরা তামাক চাষে ঝুঁকছেন।’’
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে কৃষক ও খামারিদের সাথে মতবিনিময়কালে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তামাক চাষের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘কুষ্টিয়ার মানুষ তামাক চাষে বসে আছে, অথচ কেউ এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আলোচনা করেনি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘গবাদি পশু পালনে তামাক চাষ বড় বাধা। ধীরে ধীরে তামাক চাষ বন্ধ করে আমাদের খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে।’’ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কুষ্টিয়া জেলায় খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
খবরওয়ালা/জেআর