খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
রাজশাহী মহানগরীতে মুখমণ্ডলে মাস্ক পরিধান করে আকস্মিক একটি ঝটিকা মিছিল সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বিগত ৩ জুন (বুধবার) রাজশাহী নগরীর সিটিহাট এলাকায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা সমবেত হয়ে এই আকস্মিক মিছিলটি বের করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিছিলের একটি ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, বুধবার সকালের দিকে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ জনের একটি যুবকের দল রাজশাহী নগরীর সিটিহাট এলাকায় হঠাৎ করেই একটি মিছিল বের করে। এই মিছিলটি অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য নগরীর নির্দিষ্ট এলাকার কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের স্থায়িত্বকাল কম ছিল এবং এর পরপরই মিছিলে অংশগ্রহণকারী যুবকেরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে স্থান ত্যাগ করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নিজেদের সামাজিক পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার উদ্দেশ্যে মিছিলে অংশ নেওয়া যুবকদের অনেকেই মুখমণ্ডলে মাস্ক ব্যবহার করেছিলেন। মাস্ক পরিধান করে নিজেদের আড়াল করার এই বিশেষ কৌশলটি সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। খুব দ্রুততার সাথে মিছিলটি শেষ করে তারা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অফিশিয়াল মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেছেন।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মিছিলের ভিডিও ফুটেজ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই ভিডিওটির সত্যতা এবং এর পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমানে রাজশাহী মহানগর পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, মিছিলটি সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় এবং কোন কোন সড়ক দিয়ে পরিচালিত হয়েছে, তা সুনিশ্চিত করার জন্য প্রকাশিত ভিডিওটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
একই সাথে এই অবৈধ ঝটিকা মিছিলের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে কারা জড়িত ছিল, কাদের নির্দেশে বা পরিকল্পনায় এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আরএমপি মুখপাত্র গাজিউর রহমান দৃঢ়তার সাথে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভিডিও ফুটেজ এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও পরিকল্পনাকারীদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত হওয়া মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এভাবে আকস্মিক মহড়া দেওয়ার ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই ঝটিকা মিছিলটি সংঘটিত হলো এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন উক্ত এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে যাতে করে সংগঠন পুনরায় এ ধরনের অস্থিতিশীল কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে।