খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন আরও এক যুবক। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের জৌলুর দিঘির পশ্চিম পাড় এলাকায় এই সহিংস ঘটনাটি ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি দেওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে পুলিশ বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেছেন।
নিহত যুবকের নাম পঙ্কজ শীল (৩৫)। তিনি পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামের মিলন শীলের সন্তান। অন্যদিকে এই হামলায় গুরুতর আহত যুবকের নাম তিলক চক্রবর্তী (৩৫)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ চক্রবর্তীর সন্তান। বর্তমানে আহত তিলক চক্রবর্তী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
হামলায় আহত তিলক চক্রবর্তীর দেওয়া বিবরণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে স্থানীয় কমলমুন্সীর হাট থেকে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে পায়ে হেঁটে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন পঙ্কজ শীল ও তিলক চক্রবর্তী। পথিমধ্যে তারা জৌলুর দিঘির পশ্চিম পাড় এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকার গ্রামীণ সড়কের ওপর তিন ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখেন। ওই তিনজনের মধ্যে এক ব্যক্তি নারীদের বোরকা পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। অন্ধকারে বোরকা পরিহিত ব্যক্তির রহস্যজনক উপস্থিতি দেখে পঙ্কজ ও তিলক নিজেদের কাছে থাকা টর্চলাইট জ্বালিয়ে তাদের পরিচয় ও মুখমণ্ডল দেখার চেষ্টা করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বোরকা পরিহিত ব্যক্তিসহ সেখানে থাকা দুর্বৃত্তরা আচমকা পঙ্কজ ও তিলকের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এই অতর্কিত হামলায় আক্রান্ত দুজনের চিৎকার ও শোরগোল শুনে আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে দেখে আক্রমণকারী ওই তিন ব্যক্তি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাতের কোনো একসময়ে পঙ্কজ শীল মারা যান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিবরণ, হতাহত ও জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তির পরিচিতি নিচের তালিকায় দেওয়া হলো:
| বিবরণ | তথ্যাদি ও ব্যক্তির নাম | বয়স | বর্তমান অবস্থা ও ঠিকানা |
| নিহত ব্যক্তি | পঙ্কজ শীল | ৩৫ বছর | মৃত (চক্রশালা গ্রাম, পটিয়া) |
| আহত ব্যক্তি | তিলক চক্রবর্তী | ৩৫ বছর | চিকিৎসাধীন (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) |
| আটক সন্দেহভাজন | আবিদুল ইসলাম | ৩৫ বছর | পুলিশি হেফাজতে (আদি বাড়ি: গাইবান্ধা জেলা) |
এদিকে এই বর্বরোচিত ঘটনার পরপরই স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা খুনিদের ধরতে চারদিকে ধাওয়া করেন। ধাওয়া দেওয়ার একপর্যায়ে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে তারা হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। আটক করার পর উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় এবং পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে পুলিশি হেফাজতে সোপর্দ করা হয়। আটক হওয়া ওই ব্যক্তির নাম আবিদুল ইসলাম (৩৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি গাইবান্ধা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রাতেই থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে গণপিটুনির শিকার আটক ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত বাকি পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।