ফরিদপুর, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ জেলার আলফাডাঙ্গা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১০ বছর বয়সী শিশু মো. তামিম বিশ্বাস এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া কুচিয়াগ্রাম এলাকার একটি যৌথ মারকাজুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি শিশুটির গলা ও কোমরে গরুর রশি পেঁচিয়ে একটি গরুকে তাড়া দেন। এতে গরুর টানে শিশুটি মাটিতে ছিটকে পড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পায়।
ভুক্তভোগী তামিম মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাবা মশিউর রহমান আগেই মারা গেছেন। পিতৃহীন এই শিশুটি এতিমখানায় থেকে পড়াশোনা করছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রাখা গরুটি গাছের চারা খেয়ে ফেলছিল। শিশুটি গরুটিকে অন্য স্থানে সরিয়ে বাঁধতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।
অভিযুক্ত কাউছার মৃধা (৫০), মোতাহের মৃধার ছেলে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিশুটির গলা ও কোমরে রশি পেঁচিয়ে গরুটিকে দ্রুত চালাতে বাধ্য করেন। গরুটি দৌড় দিলে শিশুটিও রশির টানে ছুটে যেতে থাকে এবং একপর্যায়ে পাশের একটি কচা গাছে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যায়। এতে তার গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
ঘটনার পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় অনেকেই এ সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এটি অত্যন্ত নৃশংস ও অমানবিক একটি ঘটনা, যা সমাজে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, সামান্য ব্যবধানে শিশুটির প্রাণহানিও ঘটতে পারত।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বিষয়
তথ্য
ঘটনার স্থান
নওয়াপাড়া কুচিয়াগ্রাম, আলফাডাঙ্গা
সময়
বৃহস্পতিবার, বিকেল ৫টা
ভুক্তভোগী
মো. তামিম বিশ্বাস (১০ বছর)
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যৌথ মারকাজুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা
অভিযুক্ত
কাউছার মৃধা (৫০)
ঘটনার ধরন
গরুর রশি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন
বর্তমান অবস্থা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
ঘটনার পর অভিযুক্ত কাউছার মৃধার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে আলফাডাঙ্গা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে, যেখানে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে শিশুটির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।