খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের প্রবল আত্মবিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে মরক্কো। বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে দলটির বর্তমান প্রধান কোচ মোহামেদ ওয়াহবি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর দল ব্রাজিলকে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না। বরং বিশ্বমঞ্চে মরক্কো ফুটবল দল এখন এমন এক অনন্য উচ্চতায় ও অন্য পর্যায়ে চলে গেছে, যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রতিপক্ষ দলই তাদের সমীহ ও সম্মান করতে বাধ্য। দলটির খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি এবং বর্তমানের শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাবই আসন্ন ম্যাচে ইতিবাচক পার্থক্য গড়ে দেবে বলে মনে করছেন মরক্কোর প্রধান কোচ।
ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল মাত্র একবারই শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। বিগত ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে মরক্কোকে ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছিল ব্রাজিল। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে সেই হারের পর দীর্ঘদিন দুই দলের দেখা না হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক দেখায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে।
বিগত ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে এই ব্রাজিল দলকেই ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মরক্কো জাতীয় দলের সেটিই ছিল প্রথম এবং একমাত্র গৌরবময় জয়। অতীতের সেই অনন্য জয়কে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে সাবেক সেমিফাইনালিস্টরা আরও একবার বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলকে পরাজিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বিশ্বকাপে নিজেদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার ঠিক পূর্বমুহূর্তে আয়োজিত এক অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি দলের সার্বিক মানসিক প্রস্তুতি ও লক্ষ্যের কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অবশ্যই এই ধরনের হাই-ভোল্টেজ ও বড় ম্যাচগুলোতে জয়লাভ করার জন্য আপনাকে মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও দৃঢ় হতে হবে। আমাদের দলের খেলোয়াড়দের সেই মানসিক ও কারিগরি সামর্থ্য পুরোপুরি আছে এবং আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে আমরা মাঠে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারব।”
প্রতিপক্ষকে মূল্যায়নের বিষয়ে কোচ ওয়াহবি আরও যোগ করেন, “আমরা ব্রাজিল দলকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং ফুটবল মাঠে তারা সেই সম্মানের যোগ্য। তবে তাদের বিরুদ্ধে খেলার জন্য আমরা বিশেষ বা অতিরিক্ত কিছু করব না। আমাদের নিজস্ব কিছু প্রাথমিক লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট করা আছে এবং আমরা খুব ভালো করেই জানি যে ঠিক কী কারণে আমরা এই বৈশ্বিক আসরে এসেছি। মাঠের লড়াইয়ে এটাই আমাদের মাঝে মূল পার্থক্য গড়ে দেবে।” তিনি দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের কথা উল্লেখ করে জানান যে, তাঁর দলের ফুটবলাররা বর্তমানে বেশ শান্ত, সংযত এবং নিজেদের সামর্থ্যের ওপর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তাঁরা এই ম্যাচটিকে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচের মতোই সম্পূর্ণ নতুন ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খেলবেন।
মরক্কোর প্রধান কোচ মনে করেন, শুধু তাঁরাই নন, বরং বর্তমানের শক্তিশালী মরক্কো দলটিকে ব্রাজিল দলও ফুটবলীয় দিক থেকে অত্যন্ত সম্মান করে। কোচ মোহামেদ ওয়াহবির ভাষ্যমতে, “তারাও (ব্রাজিল) আমাদের ভয় পায় না, ঠিক যেমনটা আমরাও তাদের ভয় পাচ্ছি না। আমার স্পষ্ট মনে হয় যে তারা আমাদের ঠিক সেভাবেই সম্মান করে, যেভাবে আমরা তাদের সমীহ করি।”
তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, কাতার বিশ্বকাপে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স প্রদর্শনের পর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে মরক্কোর অবস্থান এখন সম্পূর্ণ অন্য এক পর্যায়ে চলে গেছে। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে এমন একটি দল হিসেবে মরক্কো আত্মপ্রকাশ করেছে, যেখানে ছোট-বড় সব দলই তাদের বিশেষ সমীহ করে। কোচের মতে, বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে পাওয়া এই ভালোবাসা ও সম্মান পুরো দলকে মানসিকভাবে প্রবলভাবে উদ্বেলিত ও অনুপ্রাণিত করে। মরক্কো ফুটবল দল এই অর্জন ও ভালোবাসাকে দীর্ঘকাল ধরে রাখতে চায়, যাতে তারা ভবিষ্যতে বিশ্বের যেই প্রতিযোগিতাতেই অংশ নিক না কেন, ফুটবল বিশ্বের সবাই যেন তাদের এই সম্মান ও সমীহের চোখে দেখে।