খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ছেলের লাঠির আঘাতে রেজাউল করিম নামের ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার অন্তর্গত মেহেরচন্ডি কড়ইতলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত রাকিবুল করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তার বাবা ও মায়ের মধ্যে চলমান একটি পারিবারিক কলহের সূত্র ধরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও বিস্তারিত জানা গেছে যে, নিহত রেজাউল করিমের সঙ্গে তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের বিভিন্ন ঘরোয়া ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়শই ঝগড়া ও কলহ লেগে থাকত। পূর্বের ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া চলছিল। বাবা-মায়ের এই ঝগড়ার সময় ছেলে রাকিবুল করিম নিজেকে এই কলহে জড়িয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে তিনি তার মায়ের পক্ষ অবলম্বন করেন এবং বাবার ওপর ক্ষুব্ধ হন।
পারিবারিক কলহ চরম আকার ধারণ করলে রাকিবুল তীব্র উত্তেজিত হয়ে ঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে তার বাবা রেজাউল করিমের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। লাঠির এই আকস্মিক ও প্রচণ্ড আঘাতে রেজাউল করিমের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতরভাবে রক্তাক্ত ও জখম হন। ঘটনার পরপরই উপস্থিত লোকজন ও স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রেজাউল করিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বাবার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার পরপরই রাকিবুল করিম বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং নিজের মোটরসাইকেল স্টার্ট করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। ঘটনার পর থেকে পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) গাজিউর রহমান প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকে তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে যে এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল না। বরং তাৎক্ষণিক পারিবারিক ঝগড়া এবং উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে ঘটনাক্রমে ছেলের লাঠির আঘাতেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনায় চন্দ্রিমা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত রাকিবুল করিমকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে পুলিশের একাধিক দল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। এদিকে সোমবার বিকেলেই নিহতের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৃতদেহটি দাফনের জন্য তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিচে মেহেরচন্ডি কড়ইতলা পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার মূল তথ্যগুলো একটি তালিকার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও সংগৃহীত তথ্য |
| নিহতের পরিচয় | রেজাউল করিম, বয়স ৬৫ বছর। |
| অভিযুক্তের পরিচয় | রাকিবুল করিম (নিহতের ছেলে), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র। |
| ঘটনার সময় ও স্থান | সোমবার (২২ জুন), সকাল আনুমানিক ১০:৩০ মিনিট; মেহেরচন্ডি কড়ইতলা পশ্চিমপাড়া, চন্দ্রিমা থানা, রাজশাহী। |
| ঘটনার মূল কারণ | বাবা-মায়ের মধ্যে চলমান পারিবারিক কলহ এবং ছেলের মায়ের পক্ষ অবলম্বন। |
| ব্যবহৃত উপাদান | একটি বাঁশের লাঠি, যা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | চন্দ্রিমা থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে; ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর। |
| অভিযুক্তের বর্তমান অবস্থা | মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনার পর থেকেই পলাতক; পুলিশি গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত। |
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেহেরচন্ডি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য সংগ্রহ করছে এবং পলাতক আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।