খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বুধবার জেলাটিতে পৃথক দুটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটির নিচে চাপা পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এবং দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা পাহাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। পাহাড়ধসের সময় এক শিশুর মা-ও গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকার ৬ নম্বর সমাজে। কয়েকদিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির কারণে ওখানকার একটি পাহাড়ের বড় অংশ ধসে পাদদেশে থাকা একটি কাঁচা বসতঘরের ওপর পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ঘরের ভেতরেই অবস্থান করছিল ১০ মাস বয়সী শিশু আশরাফুল ইসলাম তানভীর ও তার মা। ওপর থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও গাছের খুঁটি ভেঙে গায়ের ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই শিশু তানভীরের মৃত্যু হয়। এ সময় তার মা-ও গুরুতর আহত হন। পরে আশেপাশের মানুষ ছুটে এসে মাটি সরিয়ে আহত মাকে উদ্ধার করেন। নিহত তানভীর ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মহিন উদ্দীনের ছেলে।
এদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা পাহাড় এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। দুপুর পৌনে ১টার দিকে মাটি ধসে পড়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত মাটি সরানোর কাজ শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা নিবিড় অভিযানের পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে মাটির নিচ থেকে সুমাইয়া (১২) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত সুমাইয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাহাড়ধসের ঠিক পূর্বমুহূর্তে সুমাইয়ার বাবা ও মা টের পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে যেতে সক্ষম হন। তবে অন্য কক্ষে থাকা সুমাইয়া দুর্ভাগ্যবশত সময়মতো বের হতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যে টন টন মাটি ঘরের ওপর আছড়ে পড়লে সে ভেতরেই আটকা পড়ে এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ধসের ঘটনা নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি স্থাপন করার কারণেই এই মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন বারবার মাইকিং করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিলেও অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে চান না, যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ শিশুদের। এই ঘটনার পর চশমা পাহাড় ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্বজনদের কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।