খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা সন্দ্বীপে হঠাৎ ধেয়ে আসা এক শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তীব্র বাতাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে একটি গ্রাম। ঝড়ের তাণ্ডবে বেশ কিছু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ির চালা উড়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে গাছপালা। প্রাথমিক হিসাবে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ইটভাটা এবং প্রায় ২০ থেকে ২৫টি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের আহতের ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শপাড়া গ্রামে এই আকস্মিক টর্নেডোটি আঘাত হানে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকাশ হঠাৎ কালো হয়ে মেঘ জমে এবং মুহূর্তের মধ্যে তীব্র ঘূর্ণিবাতাস শুরু হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের এই তাণ্ডবে পুরো আদর্শপাড়া গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টর্নেডোর স্থায়িত্ব খুব বেশি সময় না হলেও এর তীব্রতা ছিল প্রচণ্ড। ঝড়ের সময় ধারণ করা এক মিনিটের একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ঘূর্ণি বাতাসের প্রচণ্ড শক্তিতে ঘরবাড়ির টিনের চালা ও বিভিন্ন কাঁচা স্থাপনা কাগজের মতো আকাশে উড়ে যাচ্ছে। ধেয়ে আসা এই দুর্যোগের মুখে পড়ে স্থানীয় নারী ও শিশুদের দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আতঙ্কিত চিত্তে চিৎকার করতে শোনা যায়। অনেকেই জীবন বাঁচাতে পাকা ভবনের আশ্রয় নেন।
দুর্যোগের খবর পেয়ে সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, টর্নেডোর প্রলয়ংকরী বাতাসে পুরো এলাকার সাধারণ মানুষের কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বাজারের একটি বড় দোকানের বেড়া ও চাল উড়ে গিয়ে ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। কাউসার আহমেদ আরও জানান, ঝড়ে তার নিজের মালিকানাধীন একটি ইটভাটাও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপদ্রুত এলাকায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা পাঠিয়ে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী সরকারি তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে। বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় অঞ্চলে এমন আকস্মিক দুর্যোগের কারণে বর্তমানে পুরো মগধরা ইউনিয়নে এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।