পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীতভিত্তিক বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। মুক্তির পর থেকে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ ও ভালোবাসায় সিনেমাটি বৈশ্বিক টিকিট বিক্রি থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। এর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করেছে এটি।
জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এমন সাফল্য আগে খুব কমই দেখা গেছে। ‘মাইকেল’ এখন বিশ্বের প্রথম বায়োপিক হিসেবে ১ বিলিয়ন ডলারের আয় অতিক্রম করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে। মুক্তির আগে সিনেমাটিকে ঘিরে নানা আলোচনা, বিতর্ক ও সমালোচনা থাকলেও প্রেক্ষাগৃহে আসার পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সেই সব বিষয়কে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
বক্স অফিসের হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করেছে ৬২৯.৮ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর আয় দাঁড়িয়েছে ৩৭১.৮ মিলিয়ন ডলারে। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় হয়েছে প্রায় ১.০০১ বিলিয়ন ডলার।
মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ‘মাইকেল’ বড় ধরনের সাড়া ফেলে। বিশ্বব্যাপী প্রথম সপ্তাহ শেষে সিনেমাটি আয় করে ২১৭ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক বায়োপিক ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’-এর প্রথম সপ্তাহের আয়ের রেকর্ডও ভেঙে দেয়।
গ্রীষ্মকালীন সিনেমার ব্যস্ত মৌসুমেও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ‘মাইকেল’। সাধারণত বড় বাজেটের অ্যাকশন বা কল্পনাভিত্তিক সিনেমাগুলো যে সময়ে বক্স অফিসে আধিপত্য বিস্তার করে, সেই সময়েও এই সংগীতনির্ভর জীবনীচিত্র শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
সিনেমাটির সাফল্য শুধু আয়ের পরিমাণেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড নিজের করে নিয়েছে। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’ বিশ্বব্যাপী ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে ‘মাইকেল’ এখন বাস্তব কোনো ব্যক্তির জীবন নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে বেশি আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
একই সঙ্গে সিনেমাটি ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’-কেও পেছনে ফেলেছে। কুইন ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ফ্রেডি মার্কারির জীবনভিত্তিক ওই সিনেমাটি দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে সফল সংগীতভিত্তিক বায়োপিক হিসেবে পরিচিত ছিল। ‘মাইকেল’-এর সাফল্যের পর সেই তালিকার শীর্ষস্থান এখন মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীচিত্রের দখলে।
এই চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লায়ন্সগেটের জন্যও বিশেষ একটি অর্জন। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা এবং একই সঙ্গে লায়ন্সগেটের প্রথম চলচ্চিত্র, যা ১ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা ছিল ২০১৩ সালের ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’।
পরিচালনা করেছেন অ্যান্টোইন ফুকা। সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশবের সংগীতদল ‘জ্যাকসন ফাইভ’-এর সময় থেকে শুরু করে বিশ্ব সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হয়ে ওঠার দীর্ঘ পথচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তার সংগীতজীবনের উত্থান, মঞ্চ পারফরম্যান্স এবং জনপ্রিয়তার বিভিন্ন অধ্যায়কে বড় পর্দায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ হলো মাইকেল জ্যাকসনের নিজের পরিবারের একজন সদস্যের অভিনয়। মাইকেলের বাস্তব জীবনের ভাগ্নে জাফর জ্যাকসন এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এটি তার অভিনয়জীবনের প্রথম বড় কাজ। চরিত্রটির মাধ্যমে তিনি মাইকেলের ব্যক্তিত্ব, শিল্পীসত্তা ও মঞ্চ উপস্থিতি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
এ ছাড়া মাইকেল জ্যাকসনের বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোলম্যান ডোমিঙ্গো এবং মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের ভূমিকায় দেখা গেছে নিয়াহ লংকে। তাদের অভিনয়ও দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্যের পর মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীতভিত্তিক আরও চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লায়ন্সগেট ভবিষ্যতে তার জীবনের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে নতুন সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা অনুমোদন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘মাইকেল’-এর এই সাফল্য শুধু একটি সিনেমার বাণিজ্যিক অর্জন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মাইকেল জ্যাকসনের সংগীত, জনপ্রিয়তা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের নতুন এক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।