খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
স্বাধীনতা সংগ্রামী, বীরমুক্তিযোদ্ধা, জাসদের এককালীন সাধারণ সম্পাদক জননেতা সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত
৬০ দশকে ছাত্রলীগের নেতা, ১৯৬৯ সালে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বীরমুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক জোট, জাতীয় শ্রমিক জোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা এবং দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক জননেতা সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় নগরীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন খান জকি, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চুন্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর্জা মোঃ আনোয়ারুল হক, কোষাধ্যক্ষ মোঃ মনির হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মোঃ সেলিম, জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাজী ইদ্রিস ব্যাপারী, জাসদ ঢাকা মহানগর পূর্বের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জাসদ ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সহ-সভাপতি এড. আবু হানিফ, জাতীয় যুব জোটের সহ-সভাপতি শুভংকর দে বাপ্পা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননী প্রমূখ।
সভায় বক্তারা প্রয়াত নেতা সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ খিচ্চুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদানের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বক্তারা বলেন, সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শকে তিনি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবেই ধারণ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও ধারণ করেছিলেন। তিনি নিজেকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির লোভ ও মোহ থেকে মুক্ত রেখে সহজ-সরল-সংগ্রামী জীবন যাপনের একটি অনন্য নজির তৈরি করে গিয়েছেন। তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সমুন্নত রেখে বাংলাদেশের জন্মশত্রু, চিরশত্রু, ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ মদদে, পাকিস্তানের মাঠ পর্যায়ের সমন্বয়ে কোটা আন্দোলনের ছদ্মবেশে সশস্ত্র জঙ্গীবাদী উত্থান ঘটিয়ে রেজিম চেইঞ্জ অপারেশন করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের লেজুর ধর্মান্ধ জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশ দখল করে নিয়েছে। এ দখলদার সাম্রাজ্যবাদের লেজুর শক্তি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। বাংলাদেশের জন্মশত্রæ চিরশত্রæদের উপর প্রতিহিংসার রাজনীতির অংশ হিসাবে জাসদ সভাপতি জননেতা হাসানুল হক ইনুকে মিথ্যা মামলা, সাজানো বিচারে ফরমায়েসী রায়ে ১০ বছর কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রতিহিংসার অংশ হিসাবেই জাসদ সভাপতি জননেতা হাসানুল হক ইনুকে নতুন করে ‘শাপলা চত্ত্বর’ মামলায় যুক্ত করে বিচারিক হত্যার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বক্তারা বাংলাদেশের জন্মশত্রু, চিরশত্রু সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জাতীয় সংগ্রাম জোরদার করার মধ্য দিয়েই জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে কারামুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।