খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার দাম এক কোটি ডলার ঘোষণা করেছে ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই)। বাংলাদেশী মুদ্রার বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) এই বিশাল পুরস্কারের অঙ্ক প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সমান। ইরানপন্থী এই শক্তিশালী সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে কেউ হত্যা করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে এই বিপুল অর্থ দেওয়া হবে।
সশস্ত্র এই সংগঠনটি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন কুখ্যাত আন্তর্জাতিক অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, সংগঠনের সাধারণ সদস্য, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে সংগৃহীত বিশেষ অনুদানের অর্থ দিয়ে এই এক কোটি ডলারের তহবিল গঠন করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সফলভাবে হত্যা করতে পারে, তবে তারা এই পুরো অর্থ পুরস্কার হিসেবে পাওয়ার যোগ্য হবেন।
বিবৃতিতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, পৃথিবীর সমস্ত স্বাধীনতাকামী মানুষ নিরপরাধ শিশু এবং বিজ্ঞানীদের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার লড়াই চালিয়েই যাবে। স্বৈরাচারী শাসকেরা কখনো শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না। বিশ্বজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা থেকে এই অপরাধী ট্রাম্প কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবেন না। সংগঠনটি সাফ জানিয়েছে, তাদের নিহত যোদ্ধাদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া একটি ‘বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার’। শহীদদের এই রক্ত একদিন অহংকারীদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে এবং শোষকদের দুর্গ ধুলোয় মিশিয়ে দেবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই উত্তেজনার পেছনের মূল কারণটি প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার একপর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে, ২০২০ সালে ইরাকের মাটিতে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে ড্রোন হামলার মাধ্যমে হত্যার পেছনে তাঁর সরাসরি নির্দেশ ও ভূমিকা ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ও অকপট স্বীকারোক্তিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি ইরাকের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। এই ঘটনার পরই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাথার ওপর এই আকাশচুম্বী পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হলো। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।