খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ময়মনসিংহে চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ-পরানগঞ্জ সড়কের ৬ নম্বর চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চর হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন নির্জন এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত চালকের নাম রাজিব ইসলাম (২৫)। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া সাইতন কান্দা এলাকার বাসিন্দা এবাদুল ইসলামের ছেলে। রাজিবের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতের দিকে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি শম্ভুগঞ্জ মোড় থেকে জয়বাংলা বাজারে যাওয়ার কথা বলে রাজিবের অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। অটোরিকশাটি চর হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের কাছাকাছি একটি অন্ধকার ও নির্জন স্থানে পৌঁছালে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা আসল রূপ ধারণ করে। তারা রাজিবের পথরোধ করে অটোরিকশার চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। রাজিব বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাদের সাথে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই রাজিবের মৃত্যু হলে দুর্বৃত্তরা তার মরদেহটি সড়কের পাশের একটি ঝোপের ভেতর ফেলে দেয়। এরপর তারা অটোরিকশাটি নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
ঘটনার ঠিক পরপরই ওই সড়ক দিয়ে আসা অপর একটি অটোরিকশার চালক ও যাত্রীরা ঝোপের পাশে রক্ত ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখতে পান। তাদের সন্দেহ হলে তারা চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের বাড়িঘর থেকে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে আসেন। তবে সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই খুনিরা অটোরিকশা নিয়ে পরানগঞ্জের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্থানীয়রা ঝোপের ভেতর রাজিবের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর রাতেই ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শোনেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই রাজিবকে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই নির্জন জায়গাটিকে বেছে নিয়েছিল। ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশ ইতিউত্থেই মাঠে নেমেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।