মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন হত্যা মামলার এজহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার হওয়া মুশফিকুর রহমান মিল্টন (৪৫) স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা ছিলেন। আদালতে হাজির করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের জসিমের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে মুশফিকুর রহমান মিল্টনকে আটক করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার হওয়া মুশফিকুর রহমান মিল্টন শ্রীপুর উপজেলার মকর্দ্দোমখোলা গ্রামের মৃত সিদ্দিক মোল্লার ছেলে। তিনি সব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন হত্যা মামলার এজাহারে তার নাম ১৩ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মাগুরা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার অন্যান্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় মাগুরায় সংঘটিত এক ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এজাহারভুক্ত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।



