খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪ পিএম
কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দিনের আলোয় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মামলায় অবশেষে কারাগারে যেতে হলো বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ওরফে লিয়াকত মেম্বারকে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইরফানুল হক চৌধুরী তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লিয়াকতের আইনজীবী গোলাম ফারুক খান কায়সার আদালত প্রাঙ্গণে জামিন আবেদন না মঞ্জুর ও কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে সোপর্দ হওয়া ৪৬ বছর বয়সী লিয়াকত আলী কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আকবর আলী মেম্বারের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডের নির্বাচিত বর্তমান ইউপি সদস্য এবং ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত রয়েছেন।
আদালতের নথি ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, চলতি ২০২৬ বছরের ২৪ মে বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের পেছনের গেটসংলগ্ন জনবহুল সড়কে হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। প্রকাশ্যে চালানো এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় মইনুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই জিয়াউল নামে এক যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনা ঘিরে পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মোট দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী ব্যক্তিগতভাবে একটি মামলা করেন এবং অস্ত্র আইনে অন্য মামলাটি করে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও বিশেষ শাখার যৌথ অভিযানে একটি ইতালিয়ান তৈরি বিদেশি পিস্তলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রারম্ভিক অবস্থায় লিয়াকত মেম্বারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, একটি হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে এলে তাঁকেই লক্ষ্য করে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে। এমনকি নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা দেখিয়ে নিজের নামে স্থায়ী আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার কৌশল হিসেবেও প্রশাসনিক অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় কিছুদিন পরই। সিসিটিভি ফুটেজ ও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। তদন্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান, মূলতঃ প্রশাসনিক সুবিধা হাসিল ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে লিয়াকত গ্রুপের নিজস্ব সুক্ষ্ম ও মাস্টারমাইন্ড পরিকল্পনায় পুরো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল। ভিডিও তথ্য প্রমাণ মেলাতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিক তদন্ত প্রতিবেদনে বিএনপি নেতা লিয়াকতের সরাসরি সম্পৃক্ততা পান এবং তাঁকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পুলিশি বাদী মামলার তদন্তে ঘটনা সাজানো ও অস্ত্র ব্যবহারে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় লিয়াকত আলীর নাম চার্জশিটে যুক্ত করা হয়। সেই অভিযুক্ত মামলায় তিনি বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, এ মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি মো. মেহেদীকে (২২) গত ৯ আগস্ট ঝিলংঝা দক্ষিণ মুহুরিপাড়া শিকদার বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৫। আদালত চত্বরে অস্ত্র উঁচিয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী ঘটনার এ মামলায় লিয়াকত মেম্বারসহ এ পর্যন্ত মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, আদালতের ভেতরে বা আশপাশে এ ধরণের প্রকাশ্য অপরাধ রুখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য