খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২১ পিএম
বাবাকে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর দেশ ছেড়ে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ২৬ বছর বয়সী বোরহান উদ্দিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরেই তাঁর পালানোর পথ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বুধবার বিকেলে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বোরহান চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের কোকদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে গত সোমবার রাতে বাবা মোহাম্মদ শাহজাহানকে (৫৫) গাছের গুঁড়ি দিয়ে আঘাত করেন তিনি। গুরুতর আহত শাহজাহানকে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১০টার দিকে শাহজাহানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম ও মেয়ে রুবি আক্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রবাসফেরত বোরহান সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিরোধের জের ধরে তিনি গাছের গুঁড়ি দিয়ে বাবার ঘাড়ে আঘাত করেন। আঘাতের পর শাহজাহান গুরুতর আহত হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরদিন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হলে ঘটনাটি হত্যার মামলায় গড়ায়। নিহত শাহজাহানের বোন লাকী আক্তার বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় বোরহান উদ্দিনের পাশাপাশি তাঁর বোন রুবি আক্তারকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলা হওয়ার পর বোরহান আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি বাড়ায়। এর মধ্যেই তিনি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেন এবং ওমানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বুধবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে বিমানবন্দরে পুলিশের অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, বাবাকে হত্যার মামলার আসামি বোরহান উদ্দিন ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি রুবি আক্তারকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর বোরহানের দ্রুত দেশ ছাড়ার চেষ্টা মামলাটিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের বিষয় করে তুলেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সময় কী ঘটেছিল, হামলার কারণ কী এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে।
এদিকে পরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আরেকজনকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় পর্যায়েও ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ থেকে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার বোরহানকে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে মামলার অপর আসামি রুবি আক্তারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য