ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ। মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যাওয়া ম্যাচটিতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল চরম হতাশাজনক। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি সফরকারীরা। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ইনিংসই একশ রানের নিচে শেষ হলো।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই স্বাগতিকদের চাপে রাখার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহে যেতে না দেওয়ার কৃতিত্ব অবশ্য বোলারদের। দিনের প্রথম সেশনে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করা অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
এই ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শরীফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার সাতটি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে এটি হয়ে যায় সেরা বোলিংয়ের নজির। তবে শরীফুলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ২১০ রানের জবাবে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর আগেই ইনিংস পরাজয়ের বড় শঙ্কা তৈরি হয়। সেই শঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তবেই রূপ নেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে পাঁচ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় ওভারেই ম্যাচের চিত্র আরও বদলে যায়। মিচেল স্টার্কের বলে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান ইসলাম। পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প ভেঙে দেন স্টার্ক। মাত্র পাঁচ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এরপর তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে অষ্টম ওভারের শেষ বলে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ। মধ্যাহ্নভোজের আগে বাংলাদেশ ৩৯ রানে হারায় তিন উইকেট।
বিরতির পরও ধস থামেনি। আক্রমণাত্মকভাবে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে আউট হন শান্ত। এরপর লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজও দ্রুত ফিরে গেলে বাংলাদেশের ইনিংস হারের সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়ে ওঠে। হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলামও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
শেষদিকে মুশফিকুর রহিম একাই লড়াই চালিয়ে যান। তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ইনিংস হার এড়ানোর চেষ্টা করেন। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৪৪ রান। ইনিংস হার এড়াতে তখনও প্রয়োজন ছিল ৫১ রান।
বিরতির পরও অবশ্য মুশফিকের লড়াই দীর্ঘ হয়নি। তাসকিন প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর ব্যাট করতে নামা শরীফুল ইসলাম দ্বিতীয় বলেই নাথান লায়নের বলে আউট হন। ফলে ৯৫ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ইনিংস ও ৫১ রানের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের ফল বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর হলেও পুরো সিরিজের চিত্র একেবারে একপেশে ছিল না। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ডারউইনে জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য হয়ে থাকবে।
দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হয়েছে ১–১ সমতায়। ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে মাত্র দুই দিনে ইনিংস ব্যবধানে হার—দুই ম্যাচের সিরিজে এমন বৈপরীত্যই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবে।


