খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে মাঘ ১৪৩০ | ৩০ই জানুয়ারি ২০২৪ | 1148 Dhu al-Hijjah 5
নিজ সংবাদ ॥ আমাদের দেশ ষড়ঋতুর দেশ। প্রতি দুই মাস পরপর এই ঋতুর পালাবদল হয়। শীত আমাদের পঞ্চম ঋতু। পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস শীতকাল। প্রতিটি ঋতুর মতোই শীতকাল তার নিজস্ব রূপ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমাদের মাঝে হাজির হয়। হেমন্তের সোনালি ডানায় ভর করে আসে শীত। শীতের কথা স্মরণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারপাশ। হিমেল বাতাসে কাঁপতে থাকে শীতার্ত মানুষজন। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দুর নয়নাভিরাম দৃশ্য। এটা শীত ঋতুর একটা সাধারণ চিত্র।এদিকে মাঘ মাসের আজ ১৬ তারিখ। সেই হিসাবে শীতকাল প্রায় শেষে দিকে। আর সেই কারণেই কুষ্টিয়ার অধিকাংশ ব্র্যান্ডর দোকানে শীতের পোশাক বিক্রিতে চলছে বিশেষ ছাড়। কুষ্টিয়ার অধিকাংশ ব্র্যান্ডর পোশাকের দোকান শহরের এনএস রোড ও ছয় রাস্তার মোড়ে অবস্থিত। আর ঐ সমস্ত ব্র্যান্ডর দোকান গুলোতে শীতের পোশাকে মূল্য ছাড়ের প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা, দুই একটি ছাড়া অধিকাংশ দোকানে শীতের পোশাকের উপর ২০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ছাড় দিলেও ক্রেতাদের তেমন ভীড় নেই। দোকানের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুম শেষ হাওয়ার কারণে এবং স্টক ক্লিয়ারেন্সের জন্যই এই ছাড়ের ব্যবস্থা। আবার কোন কোন দোকানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, আশে পাশের দোকান গুলোতে মূল্য ছাড় দেওয়ার কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আমাদেরও ছাড় দিতে হচ্ছে। শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে অবস্থিত পোশাকের দোকান আউট ফিটে গিয়ে দেখা যায়, ঐ দোকানে শীতের পোশাকের উপর ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। দোকানের ম্যানেজার হাসনাত জানান, গত বৃহঃবার থেকে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং চলবে শীত মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। তিনি আরো জানান, ক্রেতাদের চাওয়ার কারনেই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ছাড় দেওয়ার পরে বিক্রি খুব একটা বাড়েনি বলেও তিনি জানা। শহরের ছয় রাস্তার মোড়ের আরেকটি পোশাকের দোকান মেনস ওয়ার্ল্ড এ মূল্য ছাড় দেওয়া না হলেও পাশের দোকান ভেরো এবং তার বিপরীত পাশের আর্টিকেলেও শীতের নির্ধারিত পোশাকে মূল্য ছাড় দেওয়া হয়েছে ৪০ শতাংশ। মূল্য ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্টিকেলের ম্যানেজার ইমু জানান, প্রত্যেক বছর শীত মৌসুমের শেষের দিকে মূল্য ছাড়া দেওয়া হয়। যার ফলে বিক্রি কিছুটা বাড়ে।অপর দিকে ছয় রাস্তার মোড়ে অবস্থিত পোশাকে আরেকটি দোকান টুয়েলভ। সেখানে গিয়ে দেখা যায় শীতের নির্ধারিত ডিজাইনের পোশাকের উপর ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। মূল্য ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে দোকানের ম্যানেজার কামরুল ইসলাম জানান, স্টক ক্লিয়ারেন্সের কারণেই শীত মৌসুমের শেষের দিকে মূল্য ছাড় দেওয়া হয়। যার ফলে বিক্রিও কিছু বাড়ে। টুয়েলভ এর পাশেই আরেকটি পোশাকের দোকান সিম্পল। যেখানে শীতের নির্ধারিত ডিজাইনের পোশাকের উপর ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড়া দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে শিশুদের নির্ধারিত ডিজাইনের পোশাকের উপর ছাড় দেওয়া হয়েছে ৭০ শতাংশ। এছাড়াও কুষ্টিয়ার পাঁচ রাস্তার মোড়ে ইনফিনিটি নামের আরেকটি ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকান রয়েছে। সেখানেও গত রবিবার থেকে শীতের নির্ধারিত ডিজাইনের পোশাকের উপর ছাড় দেওয়া হয়েছে ৪০ শতাংশ।কুষ্টিয়ার এনএস রোডের ইজি নামক দোশাকের দোকানে মূল্য ছাড় দেওয়া হয়েছে ১৫ শতাংশ এবং ছয় রাস্তার মোড়ের বন্ড নামক পোশাকে দোকানেও মূল্য ছাড় দেওয়া হয়েছে ৪০ শতাংশ। এদিকে ঐ সমস্ত দোকানে পোশাক কিনতে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানান, এত ছাড় দেওয়ার পরেও অবশ্যই এই পোশাক প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা ব্যবসায় লাভ করছেন। তারা কি পরিমাণ লাভ করেন তা ছাড় দেওয়া মূল্য দেখলেই বোঝা যায়। আসলে ব্র্যান্ডের পোশাকের নামে এইসব দোকানে ক্রেতাদের গলা কাটা হচ্ছে। কিন্তু এগুলো দেখার কেউ নেই।