খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক : পাবনায় ডাকাতির রিপোর্ট মিডিয়ার অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আজাদ মজুমদার। শনিবার (১ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘পাবনার সাথিয়ায় উপজেলার একটি এলাকায় গতকাল রাতে গণ-ডাকাতি নিয়ে মিডিয়ায় যে রিপোর্ট হয়েছে তা নিয়ে মিডিয়ায় অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু মিডিয়ায় ৪০টি গাড়িতে ডাকাতি হয়েছে, আবার কিছু মিডিয়া বলা হয়েছে ১০টি গাড়ি ডাকাতি হয়েছে। যে মিডিয়ার ১০টি গাড়ি ডাকাতির কথা বলা হয়েছে তাদের রিপোর্টে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পাঁচটি গাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জেনেছি এই ডাকাতির ঘটনা একটি মাইক্রোবাস, দুটি ট্রাক, একটি মোটরসাইকেল, ডাকাতির হয়। পুলিশ বিষয়টি জেনে ঘটনাস্থলে ১০ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন।’
আজাদ মজুমদার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে আরও উন্নত করা যায় আমরা সে বিষয়ে সদা সতর্ক রয়েছি।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাবনা-সাঁথিয়া সড়কের ছেঁচানিয়া তলট ব্রিজের পাশে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অন্তত ১৫-২০টি বাস ও ট্রাকে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাত প্রায় দুইটার দিকে ছেঁচানিয়া ও তলটের মাঝামাঝি ব্রিজের কাছে ডাকাতরা সড়কে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রথমে একটি মালবাহী ট্রাক থামিয়ে দেয়। এর পরপরই বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০টি যানবাহন আটকে যায়। এরপর ৩০ থেকে ৪০ জন ডাকাত হাসুয়া, রামদা, ছুরি ও অন্যান্য দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে পর্যায়ক্রমে গাড়িগুলোতে লুটপাট চালায়।
গাড়ির দরজা খুলতে দেরি করায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরও করে তারা। এসময় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মারধর করে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এ তাণ্ডব চলে।
ডাকাতির শিকার হওয়া আব্দুস সালাম নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সড়কে গাছ ফেলে গাড়ি থামিয়ে ডাকাত দল হঠাৎ আমাদের ওপর আক্রমণ করে। বারবার গাড়ির গায়ে আঘাত করায় চালককে দরজা খুলতে বলি। এরপরই ডাকাতরা চালকের গলায় ও পেটে চাকু ধরে, আমাদের সবাইকে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। আমরা বলেছিলাম, ভাই যা আছে নেন, কিন্তু কাউকে আঘাত করবেন না। আমাদের অনুরোধে আমার দুটি মোবাইল ফেরত দেয়।
তিনি আরও বলেন, একটি মাইক্রোবাসে করে দেশে ফিরছিলেন এক প্রবাসী। ওই গাড়িতে ডাকাতরা আক্রমণ চালিয়ে কয়েকজনকে মারধর করে এবং তাদের সব কিছু লুটে নেয়।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ—দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে ডাকাতির ঘটনা চললেও পুলিশের কোনো তৎপরতা ছিল না। থানায় ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। আতঙ্কে রাত কাটানোর পর ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তারা সাঁথিয়া থানার ওসির অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, কয়েকটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়েই রাতেই পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/এমবি