ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকেরা। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলের। জুড বেলিংহামের সূচনা করা দ্রুতগতির আক্রমণ ইয়ান দিয়োমান্দের পাসে গুলেরের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে পূর্ণতা পায়। এর সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপ্পে। প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তাঁর নেওয়া অসাধারণ শট সেভিয়ার রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলে। প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মাদ্রিদের দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধেও রিয়ালের আক্রমণের ধার কমেনি। ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে সেভিয়ার বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেন এমবাপ্পে। এরপর স্পট-কিক থেকে পানেককা কৌশলে বল জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করে নেওয়া এই শটে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিখুঁত দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। ম্যাচে এটি ছিল ফরাসি তারকার দ্বিতীয় গোল।
৮০তম মিনিটে সেভিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ করেন মানু বুয়েনো। এতে ব্যবধান কিছুটা কমলেও দুই মিনিট পরই রিয়াল আবার নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে জোরালো শটে চতুর্থ গোলটি করেন দিয়োমান্দে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকেরা।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মরিনহো। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে রিয়ালের জন্য এটি ভালো একটি ম্যাচ ছিল। দলের অনেক খেলোয়াড়ই ব্যক্তিগতভাবে উঁচু মানের ফুটবল খেলেছেন। তাঁর মতে, প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল রিয়ালের হাতে এবং দলটি দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি গোলও করেছে।
বল দখলে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে পর্তুগিজ এই কোচ বলেন, শুধু বল পজেশনের পরিসংখ্যান দিয়ে সব সময় মাঠের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় না। তবে সেভিয়ার মতো ভালো একটি দলের বিপক্ষে এদিন রিয়ালের বল নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য ছিল যথার্থ। জয়, খেলার মান এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ম্যাচটি তাঁর কাছে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
দলের একাদশে পরিবর্তন আনা প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মরিনহো। তাঁর ভাষ্য, যৌক্তিক বিবেচনা থেকেই খেলোয়াড়দের মধ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কাকে একাদশে খেলানো বেশি প্রাপ্য, তা কেবল হিসাব-নিকাশ দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। স্কোয়াডের অনেক খেলোয়াড়ই মাঠে নামার যোগ্যতা রাখেন। এদিন রিয়াল যেমন প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি উইঙ্গারদের কাছেও কার্যকরভাবে বল পৌঁছে দিতে পেরেছে।
এই জয়ে লা লিগায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৯ ম্যাচ শেষে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দলটি রয়েছে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান ছয় পয়েন্ট। সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় সেভিয়ার বিপক্ষে জয় মরিনহোর দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আক্রমণভাগের কার্যকারিতার পাশাপাশি রক্ষণভাগের স্থিতিশীলতাও বজায় রাখতে হবে।


