ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ের পল্লিকরনাই এলাকায় গত বুধবার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, অজয় পল্লিকরনাই এলাকায় অবস্থান করার সময় চারজনের একটি ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন। তাঁকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে নেয় তারা। এরপর তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে।
অজয় জানান, তাঁর কাছে কোনো টাকা বা দামি জিনিস নেই। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যে কর্ণপাত করেনি ছিনতাইকারীরা। বরং তাঁকে মারধর করে তারা। এরপর টাকা আদায়ের জন্য ভিন্ন কৌশল নেয় দলটি।
অটোরিকশার ভেতরেই অজয়কে দিয়ে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঋণের আবেদন করানো হয়। অল্প সময়ের মধ্যে সেই আবেদন অনুমোদন পেলে তাঁকে কাছের একটি এটিএম বুথে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। সেখানে ঋণের টাকা তুলে নেয় তারা।
সব মিলিয়ে অজয়ের কাছ থেকে ৯ হাজার ৫০০ রুপি হাতিয়ে নেয় চক্রটি। শুধু অর্থ নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা; যাওয়ার আগে অজয়ের মুঠোফোনটিও ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
ঘটনার পর অজয় পল্লিকরনাই থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে চার অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ১৮, ২২, ২৩ ও ২১ বছর। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থার অপব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। সাধারণত এসব অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত ঋণের আবেদন করা যায়। তবে কোনো ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে বা জোর করে তাঁর নামে ঋণ করানো হলে তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের দায়ও তাঁর ওপর থেকে যেতে পারে।
অজয়ের নামে নেওয়া ঋণের পরিশোধসংক্রান্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, ছিনতাইকারীরা শুধু ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা অর্থের ওপর নির্ভর করছে না; প্রয়োজনে জোর করে ঋণ করিয়েও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল বেছে নিচ্ছে তারা।


