খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ৫ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বক্তব্যের অন্যতম বিষয় ছিল লিঙ্গ পরিচয়। ফের একবার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কেবলমাত্র দুই ধরনের লিঙ্গের মানুষ থাকবে—নারী ও পুরুষ। খবর এনডিটিভি।
অধিবেশনে ট্রাম্প বলেন, `আমি ইতোমধ্যেই একটি সরকারি নীতি তৈরি করেছি। আমাদের দেশে কেবলমাত্র দু’ধরনের লিঙ্গের মানুষ থাকবেন—নারী এবং পুরুষ। স্কুলগুলো থেকে জাতিতত্ত্বের বিষ মুছে ফেলা হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট করলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে জেন্ডার স্টাডিজ তুলে দেওয়ার পক্ষে তিনি জোরাল অবস্থান নিচ্ছেন।
ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে LGBTQ+-এর কার্যক্রম বন্ধ করবেন। বাস্তবেও সেই দিকেই এগোচ্ছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নারী ও পুরুষ ছাড়া অন্য কোনো সর্বনাম ব্যবহার করা যাবে না।
তার শাসনামলে “ওয়োকিজম” (Wokeism) থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, `আমি বিশ্বাস করি, আপনি ডাক্তারই হন, অ্যাকাউন্ট্যান্টই হন অথবা আইনজীবী বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার হন, আপনার নিয়োগ এবং পদোন্নতি হবে মেধার ভিত্তিতে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্থান দখল করতে হবে। কোনোভাবেই লিঙ্গ পরিচয় এবং জাতি পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে না।’
ট্রাম্পের নতুন নীতির আওতায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে আর কোনো ট্রান্সজেন্ডার নিয়োগ করা হবে না। সেনাবাহিনীতে কর্মরতদের লিঙ্গ পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হবে না।
এর আগে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য সরকারি নথিতে পৃথক লিঙ্গের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই সেই নীতি পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন।
গত ২৭ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বার প্রবেশের পরই ট্রান্সজেন্ডারদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেন ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্তে সমর্থকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও, সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
খবরওয়ালা/ এমবি