খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
বিদ্যমান সংস্কার নির্বাচনের আগেই সম্ভব বলে মনে করেন খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা যায়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের মতামত নিতে পারে। আমরা গণপরিষদের পক্ষে না। আমরা মনে করি, প্রয়োজনীয় সংস্কার দশ মাসে করা সম্ভব।এ ছাড়া গণপরিষদ নির্বাচনের পরিবর্তনে সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার পক্ষে তারা।
আজ শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের।
আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা ১৬৬টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের মধ্যে ১৪০ টিতে ঐকমত্য পোষণ করেছি। ঐকমত্য হয়নি ১০ টিতে। আর ১৬ টিতে আংশিক ভাবে একমত।’
তিনি বলেন, সংবিধানে মহান আল্লার প্রতি আস্থা বিশ্বাস রাখতে হবে। বহুত্ববাদ (সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব) বাদ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ৪০০ আসনেই নারীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচন করার প্রস্তাব করেছি। সংসদের মেয়াদ ৫ বছরের পক্ষে মত দিয়েছি। উচ্চ কক্ষে (সিনেটে) সংখ্যানুপাতিক এক শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের অনুরোধ করেছি।
খেলাফত মজলিশের মহাসচিব বলেন, দ্বিমতের বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি, ওনারা চেষ্টা করেছেন, একপর্যায়ে এসে আলোচনা ড্র হয়েছে। আরও সময় লাগবে। কিছু বিষয়ে ওনারা বলেছেন বিবেচনা করবেন, আমরাও বলেছি কিছু বিষয়ে আমরাও বিবেচনা করব। কৌশলগত কিছু বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্য হলে আমরা আপত্তি করব না।
তিনি বলেন, ইসলামের স্পষ্ট বিরোধী কোনো আইন করা যাবে না, তা সংবিধানে বিধান থাকতে হবে। এটা সামাজিক ধর্মীয় স্থিতিশীলতা রাখার জন্য। এখানে ধর্মবিরোধী আইন করা হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচন করার সময় লিখে দিত, কোরআন সুন্নাহ বিরোধী আইন করা হবে না। এটা ৭০–এও বলছিল, গত নির্বাচনেও বলছিল। এটা তারা বরাবরই বলে, কিন্তু অনুশীলন করে না।
আওয়ামী লীগ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে আব্দুল কাদের বলেন, ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসর যারা, আগামী নির্বাচনে তাদের আসার সুযোগ নাই। তাদের বিচার করতে হবে। বিচারের পরে কেউ যদি নিরপরাধ প্রমাণিত হয়, তখন আসতে পারে। এই মুহূর্তে কোনো সুযোগ নাই। অনেকের মতো আমরাও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার বিষয়ে রাজি না। কারণ তারা এখনো ক্ষমা চায়নি। দলটি খুন করল, মানুষ মারল, ছাত্র মারল তাদের বিচার করা প্রয়োজন।
খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল আজ সংলাপে অংশ নেন।
খবরওয়ালা/ এমএজেড