খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
ভোলার লালমোহন উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বজলুর রহমান (৫০) নামে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে বিদ্যালয়েই এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম বজলুর রহমান (৫০)। তিনি উপজেলার চরভুতা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও একই এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লালমোহন থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। মামলা করার পর থেকে ওই প্রধান শিক্ষক তার প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি চেপে যেতে ভুক্তভোগীর বাবাকে চাপ দিতে থাকেন।
তাদের ওই এলাকা থেকে উচ্ছেদসহ মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এ ঘটনার ১২ দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
অপরদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) লালমোহন থানার সামনে ভুক্তভোগীর পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালের দিকে প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান ওই ছাত্রীসহ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার জন্য ডেকে আনে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যখন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ঝাড়ু দিতে যায়, তখন সেখানে প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান তাকে জড়িয়ে ধরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। ওই শিক্ষার্থী জোরাজুরি করলে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন বজলুর।
পরে ওই ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে চলে যান। ছাত্রীর মা তাকে কান্নার কথা জিজ্ঞেস করলে সে তার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের আচরণের কথা বলে। তার পেছনে প্রধান শিক্ষকও তাদের বাড়িতে আসে। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে সে একপর্যায়ে সবার সামনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লালমোহন থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা অভিযোগ করে জানান, তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক। মামলার পর থেকে প্রধান শিক্ষকের শালা ভুট্টু হাওলাদার ও জাকির হাওলাদার তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি মিমাংসার জন্য তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি টাকা নিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বের হলে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলা তুলে না নিলে তাদের রাস্তায় বের হতে দেবেন না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ১২ দিন পার হলেও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামি গ্রেপ্তারের কথা বললে থানার ওসি বলছেন, আসামিকে তারা খুঁজছেন। সে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারসহ বাড়ির লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ভিকটিমের বাবা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমানের শ্যালক ভুট্টু হাওলাদার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ভিকটিমের বাবার সঙ্গে তার এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।
লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম জানান, তিনি বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। তবে রমজানে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সত্যতা যাচাই করতে পারেননি। বিদ্যালয় খুললে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার পরপর আসামি বজলুর রহমান পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে সে মোবাইল ব্যবহার না করায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ভুক্তভোগী আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার ভয়ভীতি ও হুমকির বিষয়টি থানায় জানায়নি। জানালে তাদের কাছ থেকে জিডি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এমবি