খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে উপজেলা সদরের বাজারসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁধের ক্ষতিস্রোতে খৈলকুড়া বাজার এলাকার অন্তত ১২ থেকে ১৪টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনাও ভেসে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ১২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে ঝিনাইগাতীর ডাকাবর এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আব্দুল্লাহর ছেলে ইসমাইল (১৭) মহারশি নদীর তামাগাঁও এলাকায় নদীতে গাছ ধরতে গিয়ে পানির স্রোতে নিখোঁজ হয়েছেন।
অন্যদিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা সেতু এলাকায় ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে চেল্লাখালী নদীতে ডুবে যায় হুমায়ুন (১২) নামের এক শিশু। স্থানীয় দুলাল মিয়ার ছেলে এবং বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়ুনকে উদ্ধার করতে ডুবুরি দল দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েছে, তবে সফল হয়নি। পরে রাত সোয়া ৮টার দিকে ডুবে যাওয়া স্থানের প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তার লাশ ভেসে ওঠে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝিনাইগাতী উপজেলার অন্তত ১১৩ হেক্টর রোপা আমন ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানিয়েছেন, চেল্লাখালি, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে ভোগাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে এটি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানান, রাতে ভোগাই নদীর পানি ডেঞ্জার লেভেলে পৌঁছাতে পারে। তবে আগামীকাল থেকে সকল নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ