খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের পেস বোলিং যে গত কয়েক বছরে আমূল বদলে গেছে, তা এখন আর শুধু দেশীয় আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও বাংলাদেশের পেসারদের উন্নতি নিয়ে কথা হচ্ছে নিয়মিত। এমন প্রেক্ষাপটে যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুত ডেলিভারির রেকর্ডধারী কোনো কিংবদন্তির মুখে প্রশংসা শোনা যায়, তবে সেটি নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। ঢাকায় এসে ঠিক সেই কাজটিই করলেন পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলিং তারকা শোয়েব আখতার।
বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ খ্যাত শোয়েব আখতার। এবারের বিপিএলে তিনি ঢাকা ক্যাপিটালস দলের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে বিপিএলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ফাস্ট বোলিং ও বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। শোয়েব আখতার নামটি উচ্চারিত হলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে ২০০৩ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত—কেপটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতির ডেলিভারি, যা এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্রুততম বল।
বাংলাদেশে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শোয়েব বলেন, “বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ পেলে আমি সব সময়ই আসি। এটা বাংলাদেশের প্রতি আমার ভালোবাসা। এখানে আসার সুযোগ আমি কখনোই হাতছাড়া করি না।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি আলাদা টান অনুভব করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান পেসারদের মধ্যে সবার আগে শোয়েব আখতারের প্রশংসা কুড়ান তাসকিন আহমেদ। বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলবেন তাসকিন। তাঁকে নিয়ে শোয়েব বলেন, “তাসকিন নিজেকে উজাড় করে দিয়ে বোলিং করছে। তাকে তীক্ষ্ণ, মনোযোগী এবং ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে—এটা ফাস্ট বোলারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশের সামগ্রিক পেস আক্রমণ নিয়েও আশাবাদী শোয়েব। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের পেস ব্যাটারি ভালো করছে। আমি সত্যিই আশা করি, তারা বিশ্বকাপে অনেক দূর যাবে এবং একটি শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করবে।”
এক সময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ততটা শক্তিশালী ছিল না—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিলে শোয়েব স্বীকার করেন, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। তাসকিনের সঙ্গে নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান, ইবাদত হোসেন, তানজিম হাসান ও খালেদ আহমেদের মতো বোলাররা বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি তাঁর সময়ের আরেক গতিময় পেসার শন টেইট এখন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ।
নাহিদ রানাকে নিয়ে শোয়েবের পরামর্শ ছিল স্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক। তিনি বলেন, “ফাস্ট বোলিং মানেই শরীরের ওপর চাপ। সেই চাপ নিতে হলে শক্ত মাংসপেশি দরকার। উচ্চমাত্রার অনুশীলন, গতি ধরে রাখা ও সঠিক মানসিকতা—এই তিনটি ঠিক রাখতে পারলে নাহিদ বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার হতে পারে।” তাসকিনের মধ্যেও এই গুণগুলো তিনি দেখছেন বলে জানান শোয়েব।
সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি আসে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়—তাসকিন ও নাহিদকে কি তিনি বুমরা–আফ্রিদিদের কাতারে রাখেন? উত্তরে শোয়েব বলেন, “নাহিদ ও তাসকিন দুজনই সেই কাতারের বোলার। ওই তালিকায় আছে জাসপ্রিত বুমরা, শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ। পাকিস্তানেও আরও কয়েকজন আছে, যারা সত্যিই খুব দ্রুতগতিতে বল করে।”
| ফরম্যাট | ম্যাচ | উইকেট |
|---|---|---|
| টেস্ট | ৪৬ | ১৭৮ |
| ওয়ানডে | ১৬৩ | ২৪৭ |
| টি-টোয়েন্টি | ১৫ | ১৯ |
সব মিলিয়ে, শোয়েব আখতারের বক্তব্য বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের অগ্রগতির একটি শক্ত স্বীকৃতি। বিশ্ব ক্রিকেটের দ্রুততম বোলারের চোখে যদি তাসকিন–নাহিদরা বুমরা–আফ্রিদিদের কাতারে জায়গা পান, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সেটি নিঃসন্দেহে বড় অনুপ্রেরণার বার্তা।