খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
গাজায় ইসরাইলের চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে সর্বাত্মক অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘দ্য ন্যাশনাল এন্ড ইসলামিক ফোর্সেস ইন প্যালেস্টাইন’। আগামীকাল (৭ এপ্রিল) সোমবার এ অবরোধ পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বজুড়ে এটি পালনের ডাক দিয়েছেন তারা। খবর ওয়াফা নিউজ এজেন্সির।
এক বিবৃতিতে রোববার সংগঠনটি জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হতে এ অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ইসরাইলের ভয়ংকর নৃশংসতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রতিরোধ জোরাল করতে এটি পালনের আহ্বান করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গাজায় বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিশুদের হত্যা করছে ইসরাইল। লাখো ফিলিস্তিনিকে ঘরছাড়া করা হচ্ছে। বিবৃতিতে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতার দাবি অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এদিকে বাংলাদেশি অনেক তরুণ নেতৃত্বও গাজা ইস্যুতে সরব হয়েছেন। ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে এ অবরোধ সম্পর্কে পোস্ট করেছেন অনেক নেতা। তারা দেশজুড়ে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি পালনের ওপর জোর দিচ্ছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক সারজিস আলম ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, আগামীকাল বিশ্বব্যাপী হরতাল পালনের আহবান জানিয়েছে আমাদের মজলুম গাজাবাসী ভাইবোনেরা। গণহত্যা বন্ধ করার দাবিতে বিশ্বের সকল দেশে একযোগে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, অফিস, আদালত সব বন্ধ রাখার আহবান জানিয়েছে তারা।
কিন্তু মানুষ কিংবা মুসলিম হিসেবে এসব বন্ধ রাখাতেই আমাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয় বরং দল মত নির্বিশেষে সারাদেশের ছাত্র জনতা একসঙ্গে রাজপথে নেমে ইসরাইলি খুনিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো উচিত।
আমরা হয়তো এই মুহূর্তে আমাদের গাজার ভাইদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে পারবো না। কিন্তু তাদের লড়াইয়ের সঙ্গে একত্বতা ঘোষণা করতে নিজ ভূমির রাজপথে অন্তত নামতে পারবে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে ছাত্রনেতা এবি জোবায়ের বলেন, আগামীকাল (সোমবার) বিশ্বব্যাপী হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়েছে আমাদের মজলুম গাজাবাসী ভাইবোনেরা। গণহত্যা বন্ধ করার দাবিতে বিশ্বের সব দেশে একযোগে স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, অফিস, আদালত সব বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আগামীকাল ৭ এপ্রিল সারাদিন বাংলাদেশেও জেনারেল স্ট্রাইক পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আগামীকাল আপনারা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, অফিস-আদালত বন্ধ রাখুন৷ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করুন। চলুন বৈশ্বিকভাবে একযোগে দাবি জানাই, ফ্রি ফ্রি ফিলিস্তিন।
সাদিক কায়েম বলেন, ইয়া গাযযাহ! তোমাদের শাহাদাত ও লড়াইয়ের প্রতি আমাদের সংহতি। বি-ইযনিল্লাহ, অচিরেই আমরা তোমাদের লড়াইয়ে শামিল হবো। গাজার প্রতি বৈশ্বিক সংহতির অংশ হোন। আগামীকাল সোমবার, ৭ এপ্রিল ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’- এই কর্মসূচি সফল করুন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রেজওয়ান আহমেদ রিফাত বলেন, ‘MARCH For Palestine’ এর আহ্বানে আগামীকাল ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে সংহতি সমাবেশ করার আহ্বান। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে বিকাল ৪টায় সংহতি এবং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে আগামীকাল সারা বিশ্বব্যাপী হরতাল পালন করা হবে। একই সঙ্গে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান রইল।
খবরওয়ালা/এমবি