খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
থাইল্যান্ডে চলছে নিজস্ব সংস্কৃতির অন্যতম বর্ণিল উৎসব—সংক্রান। প্রতি বছর ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত থাই নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসব গোটা দেশকে পরিণত করে রঙিন আনন্দ-উল্লাসের এক বিশাল প্রাঙ্গণে। ২০২৪ সালে সংক্রান উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ও ঐতিহ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো একে বিশ্বের অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
‘সংক্রান’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘সংক্রমণ’ বা ‘সামনে এগিয়ে যাওয়া’ শব্দ থেকে। এই উৎসব মূলত নতুন বছরের সূচনার প্রতীক। বহু গবেষক মনে করেন, এর শিকড় প্রাচীন ভারতীয় মকর সংক্রান্তি উৎসবে, যা পরবর্তীতে খেমার সাম্রাজ্যের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করে এবং রূপ নেয় বর্তমান সংক্রান রূপে।
এই উৎসব থাই সংস্কৃতিতে শুধু একটি বর্ষবরণ নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক শুদ্ধি ও নবজাগরণের প্রতীক। থাই জনগণ বিশ্বাস করে, বছরের পুরোনো ক্লান্তি ও অশুদ্ধতাকে ধুয়ে ফেলার প্রতীকী রূপ হলো পানি। তাই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ—পানি ছিটানোর রীতিটি নতুন শুরুর এক আনন্দময় প্রকাশ।
যদিও ১৩ এপ্রিলই মূল সংক্রান দিন, সরকারিভাবে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন হয়। তবে পাতায়া ও চিয়াং মাইয়ের মতো জনপ্রিয় পর্যটন শহরে ১০ দিন পর্যন্ত চলে এই উৎসবের আমেজ। রাস্তায় রাস্তায় মানুষ নামে জলভর্তি বালতি, খেলনা বন্দুক আর হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে। সকল বয়সের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে—একটা সার্বজনীন, প্রাণবন্ত উন্মাদনায়।
থাইল্যান্ড পর্যটন কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওরাপা আংখাসিরিসাপ জানান, “এই উৎসবের সবচেয়ে বিখ্যাত দিক হলো ব্যাপক পানিযুদ্ধ। থাই নাগরিকদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটকও এতে মেতে ওঠেন, যা এই উৎসবকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে।”
জনপ্রিয় টিভি সিরিজ The White Lotus-এর একটি পর্বে সংক্রান উৎসবের একটি দৃশ্যও উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, উৎসব সম্পর্কে অনবগত তিনজন পর্যটককে স্থানীয় শিশু ও প্রবীণরা হাসিমুখে পানির খেলনায় ভিজিয়ে চুপচাপে করে দেয়। বাস্তব ঘটনাও প্রায় এমনই—উল্লাসে ভরপুর, সবাই সবার বন্ধু, সবাই একই উৎসবের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।
উৎসবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। তরুণ প্রজন্ম তাদের বড়দের হাত ধুয়ে দেয়, আশীর্বাদ গ্রহণ করে এবং পারিবারিক বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করে।
সংক্রান মানেই শুধু জল আর খেলা নয়, এটি থাই সংস্কৃতির একটি জীবন্ত নিদর্শন—যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক বন্ধন, ঐতিহ্য এবং উৎসবের আনন্দ একত্রিত হয়ে রূপ নেয় এক অপূর্ব সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায়।
এই লেখাটিকে আপনি প্রতিবেদন, ফিচার আর্টিকেল, কিংবা ভ্রমণ ব্লগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে আমি এগুলোর জন্য আলাদা স্টাইলেও রূপ দিতে পারি!
খবরওয়ালা/এমবি