খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
এএফসি নারী এশীয় কাপের আসন্ন চূড়ান্ত পর্বকে সামনে রেখে ২৯ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে ঘোষিত এই স্কোয়াডে বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে অভিজ্ঞ ও তারকা ফুটবলারদের অনুপস্থিতি। গত কয়েক বছর ধরে দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের সমার্থক হয়ে ওঠা সাবিনা খাতুন ও কৃষ্ণা রানীদের মতো খেলোয়াড়দের ব্রাত্য রেখেই দল সাজিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। নতুন ও তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে সাজানো এই দলে জায়গা পেয়েছেন চারজন নবাগত মুখ।
আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় এশীয় কাপের জন্য কোচ বাটলার মূলত অনূর্ধ্ব-২০ এবং ঘরোয়া লিগে ভালো করা তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। এছাড়া বিকেএসপির হয়ে নারী লিগে নজর কেড়েছেন উম্মে কুলসুম এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলের লেফটব্যাক নাদিয়া আক্তার জ্যোতি ও উন্নতি খাতুন।
স্কোয়াডের বর্তমান চিত্র ও নতুন অন্তর্ভুক্তির তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
সারণি: নারী এশীয় কাপের প্রাথমিক দল ও নবাগতদের তালিকা
| ক্যাটাগরি | খেলোয়াড়দের নাম | মন্তব্য |
| অভিজ্ঞ তারকা (বাদ পড়া) | সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী, মাসুরা পারভীন, সুমাইয়া | শৃঙ্খলার অযুহাতে ব্রাত্য |
| নতুন অন্তর্ভুক্ত মুখ | আনিকা রানিয়া, উম্মে কুলসুম, নাদিয়া আক্তার, উন্নতি খাতুন | প্রতিভা অন্বেষণের অংশ |
| প্রধান গোলরক্ষক | রূপণা চাকমা | নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ |
| মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগ | মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা, তহুরা, শামসুন্নাহার (জুনি.), মনিকা | বিদ্রোহ পরবর্তী প্রত্যাবর্তন |
সাবিনা-কৃষ্ণাদের বাদ পড়ার পেছনে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের জটিলতাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। গত বছরের জানুয়ারিতে কোচের বিরুদ্ধে ১৮ জন ফুটবলারের বিদ্রোহের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। যদিও সেই বিদ্রোহে অংশ নেওয়া মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা কিংবা তহুরারা দলে ফিরেছেন, তবে সাবিনা, কৃষ্ণা ও মাসুরাদের ওপর কোচের ‘অসন্তোষ’ কমেনি। এমনকি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত প্রথম নারী সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসার পরও তাদের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়েনি।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকটা হতাশ ও নির্ভার কণ্ঠস্বর শোনা গেছে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের মুখে। তিনি জানান, বর্তমানে এই অস্থিরতা আর নিতে পারছেন না। ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের মতে, শৃঙ্খলার নামে ফুটবলারদের ক্যারিয়ার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি টানাহেঁচড়া করা অনুচিত। অন্যদিকে, জাতীয় দলের অধিনায়ক ডালিয়া আক্তার মনে করেন, শৃঙ্খলার জন্য শাস্তি সাময়িক হতে পারে, তবে তা যেন ক্যারিয়ার ধ্বংসের হাতিয়ার না হয়।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, এশীয় কাপের মতো বড় আসরের মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও মূল দলের সাথে নেই প্রধান কোচ পিটার বাটলার। তিনি বর্তমানে নেপালের পোখারায় অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই প্রাথমিক দলের অনুশীলন শুরু হয়েছে। ২৯ সদস্যের এই বড় বহরের মধ্য থেকে চূড়ান্ত দল নির্বাচন করা হবে, যেখানে ফিটনেস ও তারুণ্যকে সবচেয়ে বড় মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে অভিজ্ঞতার অভাব অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে বাংলাদেশের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাবেক ফুটবলাররা।