খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে পাবনার পাকশী পর্যন্ত পদ্মা নদীতে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, তা উপেক্ষা করে চলছে বালু উত্তোলন।
২০২৪ সালের ২৯ মার্চ বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের আদেশ অনুসারে, এই এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
সম্প্রতি সরেজমিনে কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহালবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদা খাদিমপুর এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাসির উদ্দিন মোল্লা এন্টারপ্রাইজ ও তার সাব কন্টাকটার ইকবাল মাঝি মিলে পদ্মা নদী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া, বহালবাড়িয়া ও বারুইপাড়া ইউনিয়নে ৯ কি.মি অংশের নদীর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে জন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিনিয়ত পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাসির উদ্দিন মোল্লা এন্টারপ্রাইজ এর মালিক নাসির উদ্দিন মোল্লা এর সাথে পূর্বে কুষ্টিয়ার অনেক আওয়ামী লীগের এমপিদের সাথে অনেক ঘনিষ্ঠতা ছিল। আর সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ করত। আর ঠিক একই ভাবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মার বালু লুট করার জন্য স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা কুখ্যাত পান্না বাহিনীর নেতা কাকন আলী ওরফে ইঞ্জিনিয়ারের ছত্রচ্ছায়ায় বালুসন্ত্রাসী বাহিনীদেরকে বিপুল টাকার বিনিময় ম্যানেজ করে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নদীর পাড়ে বালুর স্তূপ করেছে। আর সেই বালু দিয়ে চলছে জিও ব্যাগ ভরে নদীর পার বাঁধার কাজ। যা উচ্চ আদালতের কর্তৃক আদেশের সাথে সংঘর্ষিক ও বেআইনি।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাসির উদ্দিন মোল্লা এন্টারপ্রাইজ এর মালিক নাসির উদ্দিন মোল্লার সাথে কথা বলে তিনি জানান,আমাদের সরকারি কাজের জন্য নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। আমরা খাজনা দিয়ে নদী থেকে বালি তুলছি।
পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের আদেশের পরও কাদের কে আপনারা খাজনা দিচ্ছেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, “চরের ভেতরে লোক আছে” আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে দুইদিন মিটিং হয়েছে সেই সময় তিনি আমাদের বালি তোলার অনুমতি দিয়েছিলেন।
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও আপনারা কিভাবে পদ্মা নদী থেকে বালি উত্তোলন করছেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে নাসির উদ্দিন মোল্লার সহযোগী ঠিকাদার ইকবাল মাঝি বলেন, নদী থেকে বালি উত্তোলন নিষেধাজ্ঞা আছে এটি আপনি আমাকে বলছেন। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা নদীর কোন জায়গায় মানা হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার ভেতরে প্রতিনিয়ত নদী থেকে বালি উত্তোলন হচ্ছে। আমরা খাজনা দিয়ে নদী থেকে বালি উত্তোলন করছি।
মিরপুর এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম বলেন, নদী থেকে বালি উত্তোলনের বিষয়ে আমার জানা ছিল না। এখন বিষয়টি জানলাম খোঁজখবর নিয়ে আমার যা করণীয় তা করব।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, পদ্মা নদী থেকে বালি উত্তোলনের বিষয়ে আমরা কোন ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেই নাই। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বর্তমানে পদ্মা নদী থেকে বালি উত্তোলন ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা নিয়মিত খাজনা প্রদান করেছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমাদের এখান থেকে কোন ব্যক্তিকে ইজারা দেয়া হয়নি এবং হাইকোর্টের নির্দেশ এখনও বহাল রয়েছে।
খবরওয়ালা/এমবি