খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন ঘিরে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পালটাধাওয়ার অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নারান্দিয়া কাচারি বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল চলাকালে সভাপতি প্রার্থী মাঈনুদ্দিন খসরু ও জহিরুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি, বর্তমান আহ্বায়ক ও সভাপতি প্রার্থী জহিরুল ইসলাম (৫২), উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল রানা (৩০), জহিরুলের ভাগিনা কাউছার আহমেদ (৩৬), আল আমিন (৪২) প্রমুখ। রাসেল ছাড়া অন্যদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাসেলকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে নারান্দিয়া কাচারি বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে সভাপতি প্রার্থী মাঈনুদ্দিন খসরু ও জহিরুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন চলাকালে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন খসরু গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ৯নং ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ হয়। পরে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আসমানিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। বর্তমানে আসমানিয়া বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবারও যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যেি আমি আমার নেতা–কর্মীদের নিয়ে ট্রলারে করে যাচ্ছিলাম। আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন ঘাটে পৌঁছালে ট্রলারে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও একই ইউনিয়ন বিএনপি কমিটির সভাপতি প্রার্থী মাইন উদ্দিন খসরুর সমর্থকেরা।’
জহিরুল ইসলামের দাবি, তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালান প্রতিপক্ষ সভাপতি প্রার্থী মাইন উদ্দিন ও তাঁর সমর্থকেরা। এ হামলার বিচার চান তিনি।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাইন উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তবে সেটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তিতাস উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওসমান গনি ভূঁইয়াও এ হামলার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানান তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদ উল্লাহ। তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জেনেছেন।
খবরওয়ালা/এসআর